মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০২:৩২ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
চিতলমারীতে দখলকারীদের হামলায় চার নারীসহ আহত-৭ চুয়াডাঙ্গা সদরে মোটরসাইকেল – আলমসাধু মুখোমুখি সংঘর্ঘে নিহত ২ বাগমারা হাটগাঙ্গোপাড়া মডেল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে ইনর্চাজ(ওসি)মোঃমোস্তাক আহমেদর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বানারীপাড়ায় মাছ বিক্রেতা ও মাদক ব্যবসায়ী সত্যকে ১৮০ পিচ ইয়াবা সহ আটক কেশরহাটে পৌর বিএনপির প্রার্থী প্রভাষক খুশবর রহমানের প্রচারণা নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়ক উন্নয়নে ভূমি অধিগ্রহনের ১ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার চেক বিতরণ এশিয়ান টেলিভিশনের ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষীকি পালিত যমুনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ড্রেজার ধ্বংস খাদ্যের নিরাপত্তা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন হস্তান্তর!

হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা রাস পূজায় পূর্ণ্য স্ন্যানে পূণ্যার্থীরা তবে হচ্ছে না রাস মেলা

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৬ Time View

সনাতন (হিন্দু) ধর্মের দেবতা নীল কমল ও গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে পূজা দিতে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে তীর্থযাত্রী ও সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীরা। দূবলার চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে পুণ্যস্নানে পাপ মোচনের আশায় প্রতিবছর কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এ রাস পূজাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী, হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও দেশি-বিদেশী পর্যাটকদের আগমন ঘটে দুবলার আলোকোলে। এসময় পূজার-অর্চনার পাশাপাশি এ উপলক্ষ্যে পাঁচদিন ব্যাপি মেলার আয়োজন করা হয়। আর এ মেলাই মূলত রাস মেলা হিসাবে পরিচিত। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার দুবলার চরে শত বছরের ঐতিহ্যবাহি রাস উৎসব বা মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। শুধুমাত্র সনাতন (হিন্দু) ধমবলম্বীদের রাস পূর্ণিমায় পূজা ও পুণ্যস্নানে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাস পূজা ও সোমবার (৩০ নভেম্বর) সকালে পূন্য স্ন্যানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের রাস পূজা। গেল বছর (২০১৯) সালে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে কারণে রাস পূজা ও পূন্যস্নান উপলক্ষে রাস মেলা বন্ধ ছিলো।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ জানায়, করোনা স্বাস্থ্য বিধি মেনে শর্তে সাপেক্ষে শুধু সনাতন ধর্মালম্বীদের পূজা ও পূন্যস্নানে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ এরাতে সুন্দরবনে প্রবেশ থেকে শুরু করে সার্বক্ষনিক মাস্ক ব্যবহার করতে হবে ভক্ত বৃন্দের। রাসপূজা গামী সকল জলযানে এবং পূজা স্থলে পর্যাপ্ত পরিমান স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী (হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ) রাখতে হবে। রাস পূজার জন্য প্রবেশের অনুমতিপ্রাপ্ত সকলকে জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও আইনশৃংখলায় নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা তাদের সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করবেন। কোন ট্রলার বা লঞ্চে ৫০ জনের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না। এবারের রাস পূজায় আইন শৃংখলা রক্ষার্থে বনরক্ষীদের পাশাপাশি র‌্যাব-৬ খুলনা, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলা, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটও নিয়োজিত থাকবেন।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন জানান, এবারের রাস পূজায় প্রবেশের জন্য পাঁচটি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। রুটগুলো হচ্ছে, বুড়িগোয়ালিনি, কোবাদক থেকে বাটুলা নদী-বল নদী-পাটকোষ্টা খাল হয়ে হংসরাজ নদী অতপর দুবলার চর। কয়রা, কাশিয়াবাদ, খাসিটানা, বজবজা হয়ে আড়–য়া, শিবসা নদী মরজাত হয়ে দুবলার চর। নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর। ঢাংমারী-চাঁদপাই স্টেশন-তিনকোনা দ্বীপ হয়ে দুবলার চর। বগী-বলেশ্বর-সুপতি কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর।

উল্লেখ্য, দুবলার চরের ঐতিহাসিক এই রাসমেলার ইতিহাস বেশ পুরনো। প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, ঠাকুর হরিচাঁদের অনুসারী হরিভজন নামের হিন্দু সাধু এ মেলার প্রচলন করেছিলেন। প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি সুন্দরবনে বিভিন্ন গাছের ফলমূল খেয়ে অলৌকিক জীবন-যাপন করতেন। অনেকের আবার বিশ্বাস, শ্রীকৃষ্ণ শত বছর আগের কোনো এক পূর্ণিমা রাতে পাপমোচন ও পুণ্যলাভের উদ্দেশ্যে স্বপ্নে গঙ্গাস্নান করেন। সেই থেকে শুরু হয় রাসমেলা। কারও কারও মতে, শারদীয় দূর্গোৎসবের পর পূর্ণিমার রাতে বৃন্দাবনবাসী গোপীদের সঙ্গে রাসনৃত্যে মেতেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। এ উপলক্ষেই দুবলার চরে রাসমেলা হয়ে থাকে। তবে স্থানীয় লোকালয়ে এই মেলা নীল কমল নামে পরিচিত। এ মেলায় সনাতন ধর্মালম্বীরা তাদের দেবতা নীল কমল ও গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে পূজা দেন।

আলোরকোল, নারকেল বাড়ীয়া, মাঝের কেল্লা, শেলা ও মেহেরআলীর চর নিয়ে মূলত দুবলার চর। শীত মৌসুমে বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরে জেলেরা এ চর গুলোতে শুটকি প্রক্রিয়ার কাজ করে থাকে। দুবলারচরের যে স্থানে মেলাটি হয়, তার নাম আলোরকোল। এ মেলাকে কেন্দ্র করে অনেকই অস্থায়ী দোকানপাট বসার পাশাপাশি বাউল, কবিগান, কীর্ত্তন, জারি ও গাজিরগানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাস পূর্ণিমায় সারা রাত অনুষ্ঠান দেখার পরে ভোরে প্রথম জোয়ারে সবাই পূর্ণস্নান করতে সমুদ্রের পাড়ে আসেন। এ সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূর্ণিমায় সাগরের জোয়ারের নোনাজলে স্ন্যানের মধ্যদিয়ে পাপমোচন এবং মনস্কামনা পূর্ণের আশায় মন্ত্র উচ্চারণ করে ফুল, মিষ্টি, ফলমূল ও জীবজন্তু উৎসর্গ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: মোঃ জহিরুল ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib