শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
৮ দিনেও খোঁজ মেলেনি চুরি হওয়া নবজাতকের ধারের ১০ কেজি চাল ফেরৎ চাওয়ায় ভাইয়ের ছেলের হাতে চাচা খুন! আটক তিন। বানারীপাড়ায় অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন চির নিন্দ্রায় শায়িত নওগাঁয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েও বাড়িছাড়া প্রতিবন্ধী পরিবার ত্রিশা‌লে জাতীয় কৃষক স‌মি‌তির সমা‌বেশ অনু‌ষ্ঠিত বাগেরহাটে চার দফা দাবিতে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের মানবন্ধন বাগেরহাট জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের নব গঠিত কমিটির পরিচিতি সভা মোরেলগঞ্জ আওয়ামী লীগ ১৭ বিদ্রোহী প্রার্থী কে দল থেকে বহিস্কার নওগাঁয় ৪ উপজেলার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৪৪ জেলে সহ ৪ টি ফিশিং ট্রলার আটক
সিলেট বিভাগের সকল জেলায় জেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহীগন যোগাযোগ করুন somoysongjog24@gmail.com

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কান্ড

আলো রহমান আঁখি, রংপুর ব্যুরোঃ
  • Update Time : সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১
  • ৪৯ Time View

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি করে নিজের পছন্দমত ঠিকাদারকে কাজ দেয়া, কাজ না করেই পছন্দের ঠিকাদারকে বিল দেয়া ও কাজের পাশ হওয়ার আগেই , এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে অন্য ঠিকাদার দ্বারা কাজ করিয়ে কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন প্রকল্পে নিয়ম বহির্ভূত নির্দেশনা অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যায়ে সারাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ০৩ টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় রংপুর জেলার মহানগরীর বিনোদপুর মৌজার ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপরীত পাশে জায়গা অধিগ্রহন করে ২০২০ সালের জুলাই মাসে দরপত্র আহবান করা হয়। টেন্ডারটির প্রাক্কলিত মূল্য ১৯ কোটি ১৮ লক্ষ ৬ হাজার ৮২৮ টাকা ২৯ পয়সা।১৭ কোটি ২৬ লাখ ২৬ হাজার ১৪৫ টাকা ৪৬ পয়সার বিনিময়ে কাজটি পায় ঢাকার মালিখা-সম্রাট কন্সট্রাকশন। স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্টস অনুযায়ী, এধরণের কাজ গভর্মেন্ট, সেমি গভর্মেন্ট ও অটোনমাস প্রতিষ্ঠানে একই কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ঠিকাদারকে দেয়ার কথা। কিন্তু প্রায় ২০ কোটি টাকার এই বড় কাজটি করতে নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান তার নিজের পছন্দের ঠিকাদার কে কাজ দেয়ার জন্য আইন কে পাশ কাটিয়ে সরকারি নির্মান কাজের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল, আলুর কোল্ড স্টোরেজ, ওয়্যার হাউজ বা বিদ্যুৎ সাপ্লাই কাজের নির্মানের অভিজ্ঞতা যোগ করে দেয়। বাংলাদেশের টেন্ডার নোটিশে এটাই সর্বপ্রথম বিশ্ময়কর ঘটনা বলে জানা যায়। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন প্রকৌশলী জানান, এটা সম্পূর্ণ পক্ষপাতিত্বমূলক কাজ। এতে প্রমানিত হয় যে, নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান তার নিজের পছন্দের ঠিকাদার কে কাজ দেয়ার জন্যই এই কাজটি করেছেন। এতে কমিশন বানিজ্য করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের উদ্দ্যশে টেন্ডার ডকুমেন্টস পরিবর্তন করা হয়েছে। অভিযোগের ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব আসাদুজ্জামান বলেন, যারা এই কাজটা পেয়েছেন তারা খুবই যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ। ঢাকার ও পাবনার ঠিকাদার যৌথভাবে কাজ করছেন। ইজিপি টেন্ডার অনুযায়ী তারা ১০% লেসে কাজটা করছেন। তাদের সাথে আমার কোন পরিচয় নাই। আমার পরিচয় তো থাকার কথা রংপুরের ঠিকাদারের সাথে। ঢাকা থেকেই তাদের কাজ দেয়া হয়েছে। এখানে আমার কোন স্বার্থ নাই। কাজে শুরু করার আগেই বিল উত্তোলন জানা যায়, নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও শিক্ষাঅঙ্গন উচ্চ বিদ্যালয়ের কাজ শুরুর আগেই ২০১৯ সালের জুনে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিল তোলা হয়। যদিও সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাটি পরীক্ষা করে বোঝা যায় ওখানে পাইলিং করতে হবে। ঢাকা থেকে পাইলিং অর্ডার আসে ১৬ জুন ২০২১ সালে । কিন্তু অর্ডারের আগেই বিল উত্তোলনকে ধামাচাপা দিতে প্রকৌশলীর নির্দেশনায় কাজ শুরু করে ঠিকাদার। হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে ঢিলেঢালাভাবে কাজ চলছে ৬তলা এই স্কুল বিল্ডিংয়ের। ঠিকাদারের সাথে কথা বলা হলে জানা যায়, সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের কাজের জন্য এপর্যন্ত এক কোটি টাকার মতো তোলা হয়েছে। কিন্তু এপ্রসঙ্গে প্রকৌশলী জানান ৭৮ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। যাতে ছাদ পর্যন্ত কাজ করতে পারে। তবে পিপিআর অনুযায়ী, যতটুকু কাজ হয়েছে, ততটুকুই টাকা ঠিকাদার তুলতে পারে এর বেশি বা কম নয়। সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাইটে গিয়ে দেখা যায়, কেবল কলামের কাজ চলছে। এক্সপার্টদের মতে, এতে ৬০-৭০ লক্ষটাকা খরচ হতে পারে। কোনভাবেই ১ কোটি টাকা নয়। প্রকৌশলী উদ্দেশ্যমূলক ও নিজস্বার্থেই অগ্রিম বিল উত্তোলন করেছেন। ৩ কোটি লিকুইড এসেটের পরিবর্তে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চেয়েছে মাত্র ২২৫ টাকা রংপুর এবং গাইবান্ধা জেলার ০৪ টি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ০৬ তলা ভবন নির্মানের টেন্ডার ডকুমেন্টস পরিবর্তন করে নিজের পছন্দমত ঠিকাদার কে কাজ দিয়ে কোটি কোটি টাকা কমিশন বানিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ এই নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে আরো দেখা যায় যে, ১। টেন্ডার আই ডি নং ৩৫৪০৯৬ আমিনা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,সুন্দরগঞ্জ,গাইবান্ধা ২। টেন্ডার আই ডি নং ৩৫৪০৯৭, সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,সুন্দরগঞ্জ,গাইবান্ধা ৩। টেন্ডার আই ডি নং ৩৫৭২০০ পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,পীরগঞ্জ,রংপুর ৪। টেন্ডার আই ডি নং ৩৪৯৩৩৪ রংপুর মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট , প্রতিটি ভবনের প্রয়াক্কলিত মুল্য প্রায় ৬- ৮.৫০ কোটি টাকা , পিপি আর অনুযায়ী টেন্ডার ডকুমেন্টসে লিকুইড এসেট চাওয়ার কথা প্রায় ৩ কোটি টাকা । কিন্তু টেন্ডার জালিয়াতি করার উদ্দেশ্যে মাত্র ২২৫ টাকা লিকুইড এসেট চাওয়া হয়েছে। যা একবারেই পুকুর চুরির সমান। এনিয়ে মুঠোফেনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব আসাদুজ্জামান বলেন, ইজিপি সিস্টেম অনুযায়ী আমরা প্রয়াক্কলিত মূল্য থেকে ৫০%-৮০% লেস দিয়ে লিকুইড এ্যাসেট ধরি। ওটা আমরা ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা ধরেছি। ঠিকাদারের সাথে পার্টনারশিপে ব্যবসা ও কমিশন বাণিজ্যের টাকা আদায়অনুসন্ধানে জানা যায়, টেন্ডার জালিয়াতি করে আবু জায়েদ মানিক ওরফে পাবনা মানিক হিসেবে পরিচিত এক ঠিকাদারের সাথে পার্টনারশিপে নামে বেনামে কাজ নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান রংপুর জেলায় যোগদান করার আগে মানিক ওরফে পাবনা মানিক বিভিন্ন ঠিকাদারের সাথে মিলেমিশে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ছোট ছোট কাজ করত। টাকার অভাবে নিজে কোন ঠিকাদারি কাজ করতে পারতো না। অথচ নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান রংপুরে যোগদান করার পরেই যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পায়। অভিযোগ আছে নির্বাহী প্রকৌশলী রংপুরে যোগদান করেই নিজের আখের গোছানোর কাজে ব্যাস্ত হয়ে যান। রংপুরের স্থানীয় ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে টেন্ডার জালিয়াতি করে একের পর এক কাজ দিতে থাকেন পাবনা মানিক কে। নির্বাহী প্রকৌশলী যোগদান করার পর থেকে টেন্ডার জালিয়াতি করে পাবনা মানিক কে ১। আব্দুস সামাদ; দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, গঙ্গাচড়া,রংপুর (২ কোটি ৮৮ লক্ষ), ২। কোলকোন্দ তাকিয়া শরীফ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা,গঙ্গাচড়া,রংপুর ( ৩কোটি ২৬ লক্ষ) ৩। কেরানীর হাট স্কুল এন্ড কলেজ,সদর,রংপুর ( ৪ কোটি ৫০ লক্ষ) ৪। দর্শনা বসিরুন্নেসা স্কুল এন্ড কলেজ ,সদর,রংপুর ( ৪ কোটি ৫০ লক্ষ) সহ প্রায় ২০ কোটি টাকার কাজ দেয় এবং কাজ না করেই সরকারি টাকা অগ্রিম দিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্বসাত করছে। মানিকে র সাথে কথা বলে জানা যায়- স্কুলগুলোর কোনটাই তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারুন-অর-রশিদের নামে নয়। অন্য ঠিকাদারের কাজ সে করছে। নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান রংপুরে যোগদান করার পর থেকে মানিক ওরফে পাবনা মানিক কি এমন আলাদিনের চেরাগ পেলেন এটিই বড় বিস্ময়।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: কাওসার হামিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib