মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে জয়পুরহাটে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভা গাজীপুরে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য মনোনীত হলেন ইউপি চেয়ারম্যান বাবু ১৫ নং সাংগঠনিক ওয়ার্ড ত্রি – বার্ষিক সম্মেলন হিলি সীমান্তের “বালুর চর বস্তিটি “যেন মাদকের অভয় আশ্রম মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত বাগেরহাটে ২ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জাল ভস্মিভূত ফকিরহাটে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবক আটক শরণখোলা উপজেলা পরিষদে উপ নির্বাচনে কাল, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম বাগেরহাটে সাত কর্মদিবসেই ধর্ষণ মামলার রায় এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন নালিতাবাড়ীতে উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছে এক ভূমিহীন পরিবার

রসিকের নির্ধারিত ১৪ একর জায়গায় বর্জ্যরে ভাগার

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৯
  • ৭৫ Time View

আলো রহমান আখি, রংপুর ব্যুরো:

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ফেলার নতুন স্থান নির্ধারিত করা হয়েছে ২৯ নং ওয়ার্ডের কলাবাড়ি এলাকায়। ময়লা ফেলার ওই স্থানে নতুন করে পুকুর খনন করার কাজ শুর হচ্ছে।
নগরের বর্জ্য ফেলার জন্য বরাদ্দকৃত জায়গার অর্ধেকের বেশি অংশজুড়ে পুকুর খননের কাজ চলচ্ছে। যা দশ বছরেও ভরাট করা সম্ভব হবে না। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে,গত ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ময়লা–আবর্জনা নগরীর নাছনিয়া ও ওমর আলী পাম্পের আসপাশে অন্যের জায়গায় বজ্য ফেলা হচ্ছে। ফলে, ওই এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ির আশপাশের অন্তত চার-পাঁচ গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ দুর্গন্ধে নাকাল হচ্ছেন। প্রতিদিন নাক চেপে ওই এলাকা পার হতে হয় পথচারিদের। এদিকে, বাড়ির আশপাশ ও সড়কের সংলগ্ন অংশে ময়লা ফেলার কারণে এলাকাবাসী কিছু দিন আগে সেখানে ময়লা ফেলতে বাধাঁ দিয়েছিলেন। পরে প্রশাসন ও সাবেক মেয়রের হস্তক্ষেপে আবার ময়লা ফেলা হয়। এ বিষয়ে ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাহাবুবর রহমান মনজু বলেন, আগে বর্জ্য ফেলা হতো অস্থায়ী জায়গায়। এখন আর সেদিকে বর্জ্য না ফেলে নতুন স্থান রংপুর মহানগরীর কলাবাড়িতে প্রায় ১৪ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে রসিক প্রতিদিন অন্তত ৮০ থেকে ১ শ মেট্টিক টন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। নগরীর ১৫টি ওয়ার্ডের ময়লাআবর্জনা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফেলা হয়।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সিনিয়র সহকারি সচিব রাশেদুল হক বলেন, আগে অস্থায়ী জায়গা ময়লা ফেলা হতো । দুর্গন্ধে মানুষ বাড়িঘরে থাকতে পারতো না। এখন নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। র্দুগন্ধের বিষয়টি অস্বীকার করে রসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদ নবচেতনাকে বলেন, এটা আমার দপ্তরের কাজ নয়। এটি অন্য দপ্তরের কাজ। স্থানীয়রা জানান,ময়লা ফেলার স্থানে রসিক মেয়র,কাউন্সিলর ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা কয়েক ঘন্টা অসস্থান করলে তাঁরা আর ময়লা ফেলার নির্দেশ দিতো না । তারা আরও জানান,ময়লার স্তূপের পাশ দিয়েই লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক। ফলে এই এলাকার মানুষকে নিত্যদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ময়লা ফেলার স্থানে অবাধে গরু ছাগল ঢুকে পড়ে। গতকাল মঙ্গবার দুপুরে নগরীর নাছনিয়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে ময়লার স্তূপ রাখা হয়েছে। সড়কের পাশেও ময়লা জমা আছে। কিন্তু ভেতরের বিস্তীর্ণ এলাকা খালি পড়ে রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, জনবসতি ও পথেরে পাশে ময়লার স্তূপ না করে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে হবে। এতে গন্ধ ছড়াবে না। কিন্তু বিস্তীর্ণ জায়গা খালি রেখে আবাসিক এলাকার গা ঘেঁষে ময়লা ফেলা হচ্ছে। সূত্রে জানা যায়, সিটি কর্পোরেশন হওয়ার আগে পৌরসভা থাকায় কলাবাড়ি এলাকায় প্রায় ১৪ একর জায়গা লিজ দেওয়া হয়। সেখানে এক ব্যাক্তি লিজ নিয়েছে। কিন্তু সে লিজ নিয়ে তা দখল করতে পারে নি । অভিযোগ প্রসঙ্গে নাম না প্রকাশ করার শর্তে জনৈক ব্যক্তি জানান, বর্তমান ময়লা ফেলার স্থানটি ছিল আমার লিজ নেওয়া জায়গা। আমি লিজ নিওয়ার পর জায়গাটি দখল করতে পারি নি । নগর ভবন থেকে ১০ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি। এ সম্পর্কিত নথি আমার কাছে রয়েছে। বেআইনিভাবে কোনো কিছু করছি না। এখন এই জাযগায় ময়লা ফেলা হচ্ছে। নাছনিয়া গ্রামের সাগর মিয়া বলেন, ‘ময়লার কারণে বাড়িতে থাকতে পারছি না। এলাকার লোকজন মেয়ে বিয়ে দিতে পারছেন না। তার ওপর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অনেকে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এই ময়লা গুলো এখান থেকে নিয়ে অন্য জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করলে ভাল হয়। আমরা এই অভিশাপ থেকে মুক্তি চাই। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতারেল ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা.সুলতান আহাম্মেদ বলেন, ওই এলাকার জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে। পরিকল্পনা নিয়ে ময়লার স্থান নির্ধারণ করা হোক। এতে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হবে। জানা গেছে, গত রসিক মেয়রের সময় থেকে এ পর্যন্ত ‘অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন জায়গায় ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে করে দুর্গন্ধে মানুষ বাড়িঘরে থাকতে পারছে না। গত কোরবানির ঈদে সব বর্জ্য এখানে ফেলা হয়। তখন ১৫ দিন গন্ধে এলাকার লোকজন টিকতে পারে নি। পরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলা হলে এমনটা হতো না। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা নবচেতনাকে বলেন,এখন আর বিভিন্ন জায়গায় ময়লা ফেলতে হবে না। ‘ময়লা ফেলার জন্য নতুন করে ১৪ একর জায়গায় নির্ধারিত স্থান করা হয়েছে। সেখানেই এখন বর্জ্য ফেলা হয় । বিগত ৭০ বছর আগে থেকে ওই এলাকার প্রভাশালীর ভোগদখলে ছিল রসিকের উদ্ধার হওয়া ওই জায়গাটি। এখন ওই জায়গা উদ্ধার করে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নিয়ে এসে বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত স্থান করা হয়। সেখানে দশ বছর বর্জ্য ফেলেও জায়গাটি ভরাট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি আরও বলেন, গন্ধ যেন আশপাশে না ছড়ায় সেদিকে লক্ষ রাখা হবে। ময়লা ফেলার জায়গার কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই। তবে সীমানাপ্রাচীর দেওয়ার প্রক্রিয়া চলচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: সময় সংযোগ টুয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib