শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০১:০৯ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
সুমন স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে ঈদে মিলাদুন্নবীর দোয়া-মোনাজাতে ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু দর্শনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে পাখি ভ্যানসহ গ্রেফতার ৩ জবির স্বপ্নীল বাসের চালক জসিম আর নেই যমুনার চরাঞ্চলে কৃষকরা বাদাম চাষে ব্যস্ত বিরামপুরে পৌর আওয়ামীলীগের ৮নং ওয়ার্ড কমিটির বর্ধিত আলোচনা সভা বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের দুই দিন ব্যাপি আত্মরক্ষার কৌশল বিষয়ক প্রশিক্ষন বাগেরহাটে জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বিশ্ব নবীকে নিয়ে ব্যঙ্গ করার প্রতিবাদে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত ফ্রান্সে মহানবীকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রর্দশনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

মহিপুর মাতৃসদন ও সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রোগী ভর্তি ফরমে মির্জাগঞ্জে মাতৃসদনে রোগী ভর্তি

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১১ মে, ২০১৯
  • ১৩৮ Time View

মোঃকামরুজ্জামান বাঁধন বিশেষ প্রতিনিধি॥
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুরে মাতৃসদন ও সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রোগীর ভর্তির ফরম ব্যবহার করে মির্জাগঞ্জ মাতৃসদন ও সার্জিক্যাল ক্লিনিক নামে চলছে রমরমা বানিজ্য। অনুমোদন বিহীন এ ক্লিনিকের মালিক পক্ষ শুধুমাত্র পটুয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসে মির্জাগঞ্জ মাতৃসদন ও সার্জিক্যাল ক্লিনিকের নামে আবেদন করেই সিজারিয়ানসহ সকল অপারেশন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্লিনিকের মালিক মহিপুর মাতৃসদন ও সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রোগী ভর্তিকৃত কাগজপত্রসহ অন্যান্যে গুরুত্বপূর্ন কাগজ মির্জাগঞ্জ মাতৃসদন ও সার্জিক্যাল ক্লিনিকের নামে ব্যবহার করছেন। এ ক্লিনিকটি বেসরকারি স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই। প্রসূতি,স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিৎিকসক ও সার্জন ডাঃ নাঈমা কবির নিজে একাই এ কাজ করে থাকেন বলে তিনি জানান। শিশুদের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হলে পটুয়াখালী জেলা সদরের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থাপত্র দেন তিনি। তবে গুরুত্বপূর্ন অসুস্থ্য রোগীদের শিশু কিংবা মহিলাদের পটুয়াখালী অথবা বরিশালে প্রেরন করে থাকেন। এদিকে গত ৮ মে মির্জাগঞ্জ মাতৃসদন ও সার্জিক্যাল ক্লিনিককে ভর্তি হন উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের চত্রা গ্রামের মোঃ মিলন হাওলাদারের স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্তা মোসাস্মৎ মুক্তা আক্তার(৩০)।অসুস্থ অবস্থায় এখানে ডাক্তার দেখাতে আসেন। স্বামী মিলন হাওলাদার বলেন,এখানে এসে ডাক্তার তাকে ক্লিনিকে ভর্তি করেন এবং আলট্রাসনোগ্রামসহ ব্যবস্থাপত্র দেন। কিছুক্ষন পরে মুক্তার আক্তার সুস্থ্য হন। পরে ক্লিনিক থেকে একটি ব্যাথানাশক ইনজেকশন পুশ করলে সাথে সাথে মুক্তা প্রচন্ড ব্যাথায় কাতরাতে থাকেন এবং চিকিৎসক ডাঃ নাঈমা কবির তাৎক্ষনিক ভাবে সিজারিয়ান করতে হবে বলে জানান মুক্তার স্বামী মিলনকে। সিজারিয়ান না হলে তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হবে না। পরদিন ৯ মে বৃহস্পতিবার ১৮ হাজার টাকায় চুক্তি করে মুুক্তাকে অপারেশন রুমে নেয়া হয় এবং সিজারিয়ান করে এক পুত্র সন্তান হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফী রিপোর্ট অনুযায়ী শিশু জন্মের পূর্ন বয়স না হওয়ায় সিজারিয়ান অপারেশন করায় এবং এতে শিশুর ওজন কম হয়। ওই ক্লিনিকে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় ওইদিন বিকালে ডাক্তার নাঈমা কবির নবজাতক শিশুটিকে পটুয়াখালী শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে বলেন পিতা মিলনকে। পটুয়াখালীতে সন্ধ্যারাতে নবজাতককে নিয়ে গেলে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তাঁর অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে প্রেরন করেন। এ্যাম্বুলেন্সে করে বরিশাল যাওয়ার পথে লেবুখালী ফেরীঘাটে এলাকায় পৌছলে রাত দুইটারদিকে নবজাতক শিশুটি মারা যায় বলে জানান পিতা মিলন হাওলাদার। পরে ক্লিনিক মালিকের সাথে গতকাল শনিবার মিলনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তিনি আরো বলেন, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুরে মাতৃসদন ও সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রোগীর ভর্তির ফরম ব্যবহার করে আমার স্ত্রীকে মির্জাগঞ্জ মাতৃসদন ও সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি করেন।
এব্যাপারে মির্জাগঞ্জ মাতৃসদন ও সার্জিক্যাল ক্লিনিক ডাক্তার নাঈমা কবির এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রোগী মুক্তা আক্তারের পেটের ব্যাথা নিয়ে এখানে আসেন এবং তাঁর অবস্থা খারাপ দেখে ভর্তি করি। সিজারিয়ান শেষে মা ভালো আছেন এবং নবজাতকটির ওজনে কম থাকায় পটুয়াখালী শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে প্রেরন করি এবং ছোট-খাটো কোন সমস্যা হলে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারে শরনাপন্ন হই। এর পরে কি হয়েছে আমি জানি না। মির্জাগঞ্জ মাতৃসদন ও সার্জিক্যাল ক্লিনিক নামে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসে আবেদন করা হয়েছে। এখনও আবেদনটি অনুমোদন হয়নি। তারা মৌখিক ভাবে অপারেশন করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, মির্জাগঞ্জ মাতৃসদন ও সার্জিক্যাল ক্লিনিক নামের ব্যবস্থাপত্রের কাগজ শেষ হয়ে গেছে তাই মহিপুর মাতৃসদন ও সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপত্রের কাগজে রোগী ভর্তি করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: সময় সংযোগ টুয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib