সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ০১:১৪ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে প্রধান শিক্ষকের হাত থেকে বিদ্যালয় বাঁচতে মানববন্ধন কুয়াকাটায় ট্যুরিস্ট পুলিশের উদ্যোগে বিচ ক্লিনিং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় ও আল্লাহর রহমতে জীবন ফিরে পেল অসহায় বৃদ্ধ আকতার শেখ চুয়াডাঙ্গায় করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য জেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মহানগরীর ১৯নং ওয়ার্ডে রংপুর রয়্যালস রিসোর্ট এন্ড রিক্রিয়েশনাল পার্ক এর উদ্যোগে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ পেট্রোল পাম্পে ওজনে কম, ছদ্মবেশে ধরলেন ম্যাজিস্ট্রেট বাগেরহাটে পেশাদার ব্যাবসায়ী কুদ্দুস ৪ কেজি গাজাসহ আটক-১ দিনাজপুরে বিপুল পরিমানের যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ইয়াবাসহ আটক ১ চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সদ্য ভূমিষ্ঠ ২৭ টি কন্যা শিশুর পরিবারকে পাঠালেন ফুল ও নতুন পোশাক জামালপুরের মেলান্দহে পৌর আওয়ামী লীগের যৌথ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত

বাগেরহাটে পিতার মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের অকুতি

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৯৬ Time View

বাগেরহাটে বিএনপি জামাতের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাহার তরফদারের মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বজনরা।০৬ ডিসেম্বর রবিবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আতাহার তরফদারের স্ত্রী লাকি বেগম, মেয়ে লিজা কবির, ভাই উজ্জল তরফদার, ভাতিজা জাহিদুর তরফদার উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে মেয়ে লিজা আক্তার বলেন, ১৯৯৬ সালে আমার বড় চাচা আকতার আলী তরফদার বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।বাগেরহাট শহর থেকে বাড়িতে আসার পথে দিনের বেলায় মির্জাপুর সড়কের পাশে টেম্পুর গতিরোধ করে বিএনপির চিহ্নিত সন্ত্রাসী মকবুল মাস্টার, আবজাল মল্লিকসহ আরও কয়েক জন আমার চাচা আকতার আালী তরফদারকে জবাই করে হত্যা করে। পরবর্তিতে উপ-নির্বাচনে আমার বাবা আতাহার তরফদার ডেমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা আমার বাবাকে শেষ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। না পেরে তার নামে মিথ্যে মামলা দেয়। সেই মামলায় আমার পিতা আত্মসমর্পন করে জেল হাজতে প্রেরণ করে আদালত। এর মধ্যে ১৯৯৯ সালে আমার মেঝো চাচা আনোয়ার তরফদারকে গরু গোজা মৎস্য ঘেরের বাসায় কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে আমার পিতা জামিনে মুক্ত হয়ে সুন্দর ভাবে ডেমা ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করতে থাকেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি।মিথ্যে মামলা ও হামলা চলতে থাকে আমার বাবার উপর।

এদিকে ২০০১ সালের নির্বাচনের আগ মুহুর্তে বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতা এম.এইচ সেলিম (সিলভার সেলিম) আমার বাবাকে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগদানের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, চেয়ারম্যান তুমি আমার সাথে থাকবা,আমার দল করবা ,বিনিময়ে কি চাও যত টাকা চাও আমি দেব, ব্যাংক এ্যাকাউন্ড নম্বর দেও টাকা জমা করে দিচ্ছি ,কেস কান্ড আমি দেখব। কিন্তু আমার বাবা রাজি না হওয়ায় এবং নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরে যাওয়ায় শুরু হয় আমাদের পরিবারের উপর অত্যাচার,জুলুম,নির্যাতন। লুটতরাজ করে সর্বস্বান্ত করে দেয় বিএনপির চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা।

অন্যদিকে ২০০১ সালের ১৮ জুন মোড়েলগঞ্জ থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় সোহরাফ নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়। ওই দিন আমার পিতা ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। অবাক হবার বিষয় ওই মামলায়ও আমার বাবাকে আসামী করা হয়।এজাহারে বলা হয় আমাদের লাইসেন্স করা ডবল ব্যারেল বন্দুক দিয়ে সে ভিকটিমের বুকে গুলি করেছে। অথচ আমার মায়ের নামে লাইসেন্সকৃত ডবল ব্যারেল বন্দুকটি বাগেরহাট সদর থানায় জমা ছিল।মামলায় আমার বাবা আত্মগোপনে থাকে।ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয় খুনি আবজাল মল্লিককে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা সাজাহান শরিফ তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন সোহরাফ হত্যা কান্ডের সাথে আতাহার তরফদারের কোন সংশ্লিষ্টতা নাই ।আমার মায়ের নামে লাইসেন্স কৃত বন্ধুকটি থানায় থাকা স্বত্তেও বিচারক ওই মামলায় আমার বাবাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন।

এছাড়া মোংলার ইলিয়াস হত্যাকান্ডেও আমার বাবাকে মৃত্যু দন্ড দেওয়া হয়। হত্যাকান্ডের এজাহারে লেখা রয়েছে ১৯৯৮ সালের ১৮ নভেম্বর তারিখে ভিকটিমকে হত্যা করা হয়।অথচ ১৮ তারিখ প্রাকৃতিক র্দূযোগ থাকার কারনে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত চলছিল। সুন্দরবন ছিল তখন পানির নিচে অথচ ৪ দিন পর তদন্তে গিয়ে মাটিতে দা কুড়ালের কোপের দাগ,গাছের পাতায় রক্ত ও গাছের ডালে চুল পায় লাশ নাই কারো শিকারোক্তি নেই। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে দল ক্ষমতায় আসলে সাবেক আইন মন্ত্রী আমির খসরুর মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হন আমার আব্বু। কিন্তু উক্ত বানোয়াট মামলায় ২০১৪ সালে ১১ মে আগ্রুমেন্টে হাজির হলে জেলা জ্বজ আদালতের বিচারক আমার আব্বুর জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। সেই থেকেই আমার বাবা কারাগারে রয়েছেন। ১৮ মে আদালত কোন যুক্তিতর্ক না শুনে আব্বুকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। পরে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করলে উচ্চ আদালত মৃত্যুদন্ড কমিয়ে ৩২ বছর সস্ত্রম কারাদন্ড দেয়। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।

কান্না জড়িত কন্ঠে লিজা কবির আরও বলেন, আমার দুই চাচার হত্যার প্রকৃত আসামীরা আদালত থেকে খালাস পেয়েছে। অথচ আমার পিতা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মিথ্যে মামলায় দীর্ঘ দিন কারাগার ভোগ শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।পাশাপাশি আমার মাসহ পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। আমি মিথ্যে ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে মুক্তি দিয়ে আমার বাবার মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভিক্ষা চাই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন লিজা কবির।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: মোঃ জহিরুল ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib