রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
মুজিব বর্ষ

বাগেরহাটে ধর্ষনের ১১ দিন পর মামলা, আটক-১

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • Update Time : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ২৯২ Time View

বাগেরহাটে বাসা ভাড়া করতে এসে গনধর্ষনের শিকার হওয়ায় মামলা দায়ের করেছেন সিমি আক্তার ঐশি নামের একটি নারী। বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ভট্রপ্রতাপ গ্রামের তার বাড়ি। এ ঘটনায় মামলার এজাহার ভুক্ত ৩নং আসামী শাহিন মোল্লাকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। শাহিন মোল্লা বাগেরহাট সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের শাহাদাত মোল্লার ছেলে।
এ বিষয়ে সিমি আক্তার ঐশি ১৮ আগষ্টনিজে বাদী হয়ে বাগেরহাট সদও থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট সন্ধা সাড়ে ৬টার দিকে কৃষ্ণনগর গ্রামের খায়রুন নাহারের বাড়িতে ওয়াল করা টিনসেড বাড়ির একটি রুম ভাড়া করার জন্য যান ঐশি। এ সময় বাড়িতে শুধু খায়রুন নাহারের স্বামী আলতাফ হোসেন একা অবস্থান করছিল। বাসা ভাড়া নিয়ে কথা বলার শেষ পর্যায়ে কৃষ্ণনগর গ্রামের তন্ময় কুন্ডু (৩০), শাহিন মোল্লা (২৮), নোনাডাঙ্গা গ্রামেন সাকিব শেখ (২৮), ও মালোপাড়ার ইফতি খায়রুন নাহারের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা ঐশিকে খায়রুন নাহারের বাড়ির উত্তর পাশের্^র রুমে জোরা-জুরি করে নিয়ে যায় ও রুমের লাইট বন্ধ করে দেয়। এ সময় তন্ময় কুন্ড,ু সাকিব শেখ ও শাহিন মোল্লা তাকে পালাক্রমে ধর্ষন করে। এ সময় ইফতিসহ আরো ৩/৪ জন ব্যক্তি এসে আলতাফ হোসেনকে মারপিটের ভয় দেখাইয়া বারান্দায় বসিয়ে রাখে। ধর্ষন শেষে আসামীরা আপত্তিকর ছবি তোলে এবং এ বিষয়টি কাউকে না জানাতে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরে আসামীরা বিভিন্ন সময় ফোন করে ঐশিকে কু প্রস্তাব দেয়। কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঘটনারদিন ধারনকৃত ছবি ইন্টারনেট ফেসবুকে প্রকাশ করবে বলে হুমকি প্রদান করে বলে মামলা সূত্রে জানা যায়।
এদিকে এ ঘটনার পর থেকে এলাকার সাধারন মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কৃষ্ণনগর গ্রামের নিলুফা আক্তার বলেন, ঘটনার দিন সন্ধায় আলতাফ হোসেনের বাড়ির পাশের্^র দোকানের বসা লোকজন একটি মেয়েকে রাস্তার পাশদিকে বারে বারে ঘোরাঘুরি করতে দেখে। এক পর্যায়ে মেয়েটি আলতাফ হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখে এলাকা বাসির সন্দেহ হয়। তারা কয়েকজন যুবক আলতাফের বাড়িতে যায় ও মেয়েটিকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য মেয়েটি পা ধরে মাফ চায়। পরে পুলিশে না দিয়ে মেয়েটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় আলতাপের ঘরে স্থানীয় কামরুল নামে একজন ছিল বলে জানান।
নোনাডাঙ্গা গ্রামের রহিমা বেগম জানান, আলতাফ হোসেনের পরিবারের সাথে সাকিব শেখের পরিবারিক দ্বন্দ থাকায় তারা মেয়েটি দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়েছে। তিনি জানান অপরাধ না করেও এলাকার নিরিহ ছেলেদের নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
কৃঞ্চ নগর গ্রামের জাহানারা বেগম জানান, আলতাফের বড় মেয়ের সাথে এলাকার ফরিদ মোল্লার ছেলের সাথে প্রেমের সম্পক্যের কারনে মেয়েটিকে শাসন করতে গিয়ে মাথায় আঘাত লেগে মেয়েটি কয়েক বছর আগে মারা যায় সেই ক্ষোভে আলতাফের স্ত্রী খায়রুন এলাকার নিরিহ ছেলেদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ঐ দিন খায়রুন বাড়ীতে না থাকায় ঐশি কে খায়রুনের স্বামী আলতাফ ভাড়া করে এনেছিল।
মামলার ৪ নং আসামী ইফতির বাবা মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান,আমার ছেলে ঘটনার দিন বাড়িতে ছিল। কৃষ্ণনগর এলাকায় আমার ছেলের ব্যবসা থাকায় স্থানীয় শাহিন মোল্লার সাথে আমার ছেলের পরিচয় ছিল। রাত ৯ দিকে শাহিন আমার ছেলেকে ফোন দিয়ে কৃষ্ণনগরে সমস্যা হয়েছে বলে জানায়। কৃষ্ণনগরে ব্যবসা থাকায় দ্রæত আমার ছেলে ঘর থেকে দ্রæত বের হয় এবং ত্রিশ মিনিটের মধ্যে বাসায় ফিরে আসে। আমরা জানতে চাইলে ইফতি বলে কৃষ্ণনগরে আলতাফ হোসেন তার বাড়িতে একটি মেয়েকে ভাড়া করে এনেছে এবং মেয়ে সহ স্থানীযদের হাতে ধরা পড়েছে বলে জানায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম জানান, মেয়েটি একসময় আমার এলাকায় ভাড়া থাকত। তার নামে একাধিক অভিযোগ আসায় আমি মেয়েটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি মেয়ে ভ্রাম্মমান প্রতিতা হিসেবে কাজ করে। সে এক বছরে একাধিক বার বাসা পরিবর্তন করে। পূর্বে তার বিরুদ্ধে পরিষদে একাধিক বার শালিসী হয়েছে। এ ঘটনার এলাকার কোন যুবক জড়িত নয় বলে জানান। তিনি জানান, এলাকার নিরীহ ছেলেরা যাতে বিনা কারনে শাস্তি না পায় এ জন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কাড়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ বশিরুল ইসলাম বলেন,সন্ধার সময় মেয়েটি যে বাড়িতে বাসা ভাড়া করার জন্য গিয়েছিল ঐ বাড়িতে বাসা ভাড়া দেওয়ার মত কোন জায়গা নেই। বাড়িতে আলতাফ হোসেনের স্ত্রী না থাকার সুযোগে স্থানীয় কামরুল ও আলতাফ মেয়েটির সাথে অনৈতিক কার্যকালাপে লিপ্ত হবার জন্য মেয়েটিকে আমন্ত্রন জানায় বাসায়। মেয়েটি এলাকায় ভ্রাম্যমান প্রতিতা হিসেবে কাজ করে। তিনি জানান,এলাকার কিছু সমাজ সেবামূলক কাজে জড়িত ছেলেরা মেয়েটিকে বাড়ির সামনে হাটাচলা করতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। অসামাজিক কার্যকালাপ ঠেকাতে স্থানীয় ছেলেরা তাদেরকে বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েটিকে দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। তিনি জানান মামলার বিবরনির সাথে বাস্তবতার কোন মিল নাই।
এদিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ মিরাজুল করিম জানান, ১৯ আগষ্ট ভিক্টিমের ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাফিন মাহামুদ জানান,ধর্ষন মামলার এ পর্যন্ত শাহিন মোল্লা নামে এক জনকে আটক করেছে পুলিশ। তার কাজ থেকে স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। বাকি আসামীদেরকে ও দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: মাহিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib