শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
৮ দিনেও খোঁজ মেলেনি চুরি হওয়া নবজাতকের ধারের ১০ কেজি চাল ফেরৎ চাওয়ায় ভাইয়ের ছেলের হাতে চাচা খুন! আটক তিন। বানারীপাড়ায় অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন চির নিন্দ্রায় শায়িত নওগাঁয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েও বাড়িছাড়া প্রতিবন্ধী পরিবার ত্রিশা‌লে জাতীয় কৃষক স‌মি‌তির সমা‌বেশ অনু‌ষ্ঠিত বাগেরহাটে চার দফা দাবিতে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের মানবন্ধন বাগেরহাট জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের নব গঠিত কমিটির পরিচিতি সভা মোরেলগঞ্জ আওয়ামী লীগ ১৭ বিদ্রোহী প্রার্থী কে দল থেকে বহিস্কার নওগাঁয় ৪ উপজেলার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৪৪ জেলে সহ ৪ টি ফিশিং ট্রলার আটক
সিলেট বিভাগের সকল জেলায় জেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহীগন যোগাযোগ করুন somoysongjog24@gmail.com

বাগেরহাটের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেনই আক্রান্ত রোগীদের ভরসা

সোহরাব হোসেন রতন, বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • Update Time : বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১
  • ৪৫ Time View

বাগেরহাটে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য জেলা সদরে আলাদা ৫০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল খুলেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বছর দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সনাক্ত হওয়ার পর বাড়তি সতর্কতা হিসেবে বাগেরহাটে এই হাসপাতালটি প্রস্তুত করে স্বাস্থ্য বিভাগ। সেই থেকে এই হাসপাতালে সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনা পরীক্ষা ও আক্রান্ত অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে কর্তৃপক্ষ। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে নিবীড় পরিচর্যার আইসিইউ বেড না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা।
এছাড়াও জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটিতে পাঁচটি করে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করে।
বাগেরহাট জেলায় করোনা ভাইরাসে সংক্রমণে প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাাঁড়াল দুই হাজার ৮৬৬জন। এরমধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন দুই হাজার ৩৮ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৩ জন।
বাগেরহাটে আইসিইউ বেড চালুর জন্য ১০টি ভেন্টিলেটর বরাদ্দ পেলেও অবকাঠামো ও লোকবল সংকটে আপাতত চালুর সম্ভববনা নেই। ফলে এই জেলার সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিতে বাইরে যেতে হচ্ছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ।
গত বছরের এপ্রিলে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের জন্য প্রচলিত কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় অন্তত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। ওই সময়ে সিলিন্ডার অক্সিজেনের মজুদ বাড়ায় তারা। পরে মুমুর্য্য রোগীদের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন ট্যাঙ্ক স্থাপনের দাবি তোলেন স্থানীয় স্বাস্থ্য সচেতনমহল। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রায় সাড়ে সাত হাজার লিটার ধারণক্ষমতার সেন্ট্রাল অক্সিজেন ট্য্যঙ্ক স্থাপন করে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বাগেরহাট ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালটির পাশে আরেকটি আধুনিক পাঁচতলা ভবন করে আড়াইশ শয্যায় উন্নিত করে স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালটি পড়ে ছিল। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এই ভবনটিকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এই হাসপাতালের দুই তলাতে করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়। আর তিন ও চারতলায় ৫০টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি বেডের সাথে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের লাইন স্থাপন করা হয়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডারের মজুদ রয়েছে ১৫৯টি। এরমধ্যে বড় সিলিন্ডার ৩৯টি এবং ছোট ১২০টি। হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা রয়েছে ৬টি। সেন্ট্রাল অক্সিজেন ট্যাঙ্কিতে তরল অক্সিজেন মজুদ রয়েছে সাত হাজার লিটার। এই অক্সিজেন আগামী তিন মাস রোগীদের সরবরাহ করা যাবে।
বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. মিরাজুল করিম এই প্রতিবেদককে বলেন, ২০০১ সালে ৫০ শয্যার বাগেরহাট সদর হাসপাতালটি একশ শয্যায় উন্নিত হয়। সেই ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে গত দুই দশক ধরে একশ শয্যার হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালের যে জনবল থাকার কথা তাই নেই। এরপর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই হাসপাতালটিকে আরও একশ শয্যা বাড়িয়ে মোট আড়াইশ শয্যায় উন্নিত করা হয়। এই হাসপাতালে সিনিয়র ও জুনিয়র কনস্যালটেন্টের ১২টি পদের বিপরীতে রয়েছে পাঁচজন। ১৫ জন মেডিকেল কর্মকর্তার বিপরীতে রয়েছে ৩ জন। জনবল সংকটে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই সংকটের মধ্যে গত প্রায় দেড় বছর ধরে নতুন করোনা রোগ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। হাসপাতালের জনবল সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বারবার অবহিত করেও কোন কাজে আসেনি।
তিনি আরও বলেন, বাগেরহাটে করোনা ভাইরাসের প্রথম ঢেউ শুরু হলে আলাদা ৫০ শয্যার একটি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল খোলা হয়। এই হাসপাতাল চালু করার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২২ জন চিকিৎসক এবং ৫০ জন নার্স দেয়। তারাই এখানে নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
বাগেরহাটের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কে এম হুমায়ুন কবির এই প্রতিবেদককে বলেন, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পরপরই বাগেরহাটের আক্রান্ত রোগীদর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রথম ঢেউ শুরুর পর এই হাসপাতালটিতে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সিলিন্ডার অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখা হয়। বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে ১৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ রয়েছে। এরপর আমরা রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থার দাবি জানালে সরকার সেন্ট্রাল অক্সিজেন ট্যাঙ্ক স্থাপনের ব্যবস্থা করে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালের প্রতিটি বেডের সাথে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। একই সাথে ৫০ জনকে সেবা দেয়া যাবে। এছাড়া ৬টি হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা রয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্যাঙ্ক স্থাপনের কাজ শেখ করে চলতি জুন মাসের প্রথম দিকে সেটি চালু করেছি। ওই সেন্ট্রাল অক্সিজেন ট্যাঙ্কে সাত লিটার অক্সিজেন মজুদ রয়েছে। স্বাভাবিক ব্যবহার হলে আগামী তিন মাস পর্যন্ত রোগীরা এটি ব্যবহার করতে পারবে। চলতি বছরের প্রথম দিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে দশটি ভেন্টিলেটর বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেটি আমরা হাতে পেয়েও প্রশিক্ষিত জনবল ও অবকাঠামো সংকটের কারনে তা চালু করা সম্ভব হয়নি। অবকাঠামো নির্মানের জন্য দরপত্র দেয়া হয়েছে। খুবশিগগির কাজ শুরু হবে। আইসিইউ বেড না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের জেলার বাইরে গিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে।
বাগেরহাট জেলায় দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই অস্বাভাবিকহারে বাড়ছে। বর্তমানে জেলায় আক্রান্তেরহার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। যা স্বাস্থ্যবিভাগের জন্য উদ্বেগজনক।বর্তমানে করোনা হাসপাতালে উপসর্গ ও আক্রান্ত রোগী মিলিয়ে ৪০ জন ভর্তি রয়েছে। আক্রান্তেরহার এভাবে বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কত সময় ভাল থাকবে তা বলা কঠিন। তাই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: সময় সংযোগ টুয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib