বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত কিশোর-কিশোরী ক্লাবের কিশোরীদের মাঝে ৪৫ টি বাইসাইকেল বিতরণ বাংলার ঐতিহ্য হালখাতা, লালখাতা, নতুন খাতা ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির পহেলা বৈশাখ পবিত্র রমজান উপলক্ষে মুসলিম জাহানের প্রতি হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির শুভেচ্ছা বানারীপাড়ায় ইউএনও’র কার্যালয় সজ্জাকরণের উদ্ধোধন করেন ডিসি নীলফামারীতে পাচঁ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি, চাঁদা দিতে না পারায়,ঘরে অগ্নিসংযোগ ও মাছ চুরি জবিতে বৈশাখের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান লকডাউনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা মোরেলগঞ্জে চাল দেওয়ার সময় হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১৩ বাগেরহাটে এটিএম বুথে নেই টাকা, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

পীরগঞ্জে আ’লীগ নেতার পরিবারে ফেয়ার প্রাইজ চালের একাধিক কার্ড বঞ্চিত হতদরিদ্ররা

দিনাজপুরঃ
  • Update Time : সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪৭ Time View
আব্দুল খতিব। বয়স প্রায় ৫৭ বছর। পেশায় দিন মজুর। বাড়ি ভোমরাদহ গ্রামে। এক ছেলে প্রতিবন্ধী সহ তার পেিবারে সদস্য সংখ্যা ৮ জন। দিন মজুরী করে কোন মতে অনাহারে অর্ধাহারে দিন চলে তাদের। দেশে করোনা কালিন সময়ে কাজ কর্ম কমে যাওয়ায় পড়েন মহা বিপাকে। প্রতিবন্ধী ছেলের ভাতা সহ সরকারি সহায়তার জন্য ধরনা দেন জন প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন দপ্তরে। কিছু ভিজিএফ এর চাল পাওয়া ছাড়া তার ভাগ্যে আর কোন সরকারি সহায়তা জুটেনি। দিনমজুর আব্দুল হাকিম। বাড়ি সেনুয়া গ্রামে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। তার ভাগ্যেও জুটেনি সরকারী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর তেমন কোন সুবিধা। অথচ প্রতিরন্ধী ভাতা, ভিজিডি, ফেয়ার প্রাইজ কার্ড (১০ টাকা কেজি দরে চাল) সহ সরকারের নানা কর্মসুচী চলমান রয়েছে। এসব সরকারি সুবিধা খতিব বা হাকিমের মত দিনমজুরেরা না পেলেও, পেয়েছেন স্বচ্ছল দলীয় নেতা-কর্মীরা। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচী এ চিত্র ঠাকুরগাও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের।
ঐ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ভোমরাদহ সর্দারপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম। পরিবারের অবস্থা স্বছল। মিলন বাজারে মুদি দোকান রয়েছে তার। মোটর সাইকেল হাকিয়ে বেড়ান। মা, স্ত্রী ও ৩ ছেলে নিয়ে একত্রে বসবাস করেন। তারপরও স্ত্রী ও ছেলেদের নামে পেয়েছেন ফেয়ার প্রাইজের (১০ টাকা কেজি দরে চাল) কার্ড। কয়েক বছর ধরে তুলছেন সে চাল। সালামের স্ত্রী আরিফার কার্ড নম্বর ১০৮০, বড় ছেলে আরিফের কার্ড নম্বর ১১১০, অপর দুই ছেলে আমিন ও আকাশ। তাদের কার্ড নম্বর ১০৫৫। একটি কার্ড দিয়ে দুই জন চাল তুলেন। একই নম্বরের কার্ডে তালিকায় কখনো আমিন এর নাম আবার কখনো আকাশের নাম ব্যবহার করা হয়। একই পরিবারে একাধিক কার্ড না দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এ ক্ষেত্রে কোন নিয়ম মানা হয়নি। স্বচ্ছল পরিবার হলেও কার্ডে দেখানো হয়েছে দিনমজুর। সালামের মত অনেক স্বচ্ছল পরিবার পাচ্ছেন ফেয়ার প্রাইজের চাল সহ নানা সরকারি সুবিধা। অথচ একই ইউনিয়নের ভোমরাদহ গ্রামের দিনমজুর খতিব এবং সেনুয়া গ্রামের হাকিমে মত অনেক গরিববই বঞ্চিত রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে।
খতিবের দাবি, তার এক ছেলে প্রতিবন্ধী। কোন ভাতা পায় না। ভিজিডি বা স্বল্প মুল্যে চালের কার্ড পাননি। অনেক ঘুড়েছেন। কেউ কথা শুনেনি। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন। তাদের খোজ কেউ রাখেন না। হাকিম বলেন, সরকার গরিবদের জন্য এত কিছু দিচ্ছেন। অথচ আমরা গরিবরা পাচ্ছি না। আমাদের কথা কে শুনে !।স্বচ্ছল হওয়া সত্তেও একই পরিবারে স্ত্রী ও ছেলের নামে ফেয়ার প্রাইজের কার্ড নেওয়া প্রসঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা আব্দুস সালাম বলেন, আমরা স্বচ্ছল নই। হতদরিদ্র। এজন্য ৩টা কার্ড পেয়েছি। আমার এক ছেলে বিয়ে করে আলাদা খায়। আমি দুইটা কার্ডের সুবিধা পাই। তাতে কি !
এ বিষয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিটলার হক বলেন, তালিকাটি ৫ বছর আগের করা। তালিকায় কি আছে, দেখতে হবে। তাছাড়া আমরা ছোট পদে আছি, এখানে কি!। যারা কোটি কোটি টাকার দূর্নীতি করছে, তাদের দেখন না!।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম বলেন, এমনটা হয়ে থাকলে কার্ড বাতিল করা সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: সময় সংযোগ টুয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib