শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
নীলফামারীতে ভোকেশনাল ট্রেনিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হিলিতে ৪৫০পিছ ইয়াবাসহ আটক ২ এখনও থেমে থেমে জ্বলে উঠছে বিভিন্ন জায়গা সুন্দরবনের আগুন, পুড়েছে ১০ একর বনভূমি পারিবারিক কবর স্থানে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা কায়েসের ঈদ উপহার নওগাঁয় ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যাবার সময় চুরি করে নেওয়ার এক ঘন্টার মধ্যে পাঁচ সদস্য গ্রেফতারঃ চুরি যাওয়া পঞ্চাশ হাজার টাকা উদ্ধার জীবননগর শিয়ালমারী পশুহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে মাসিক কল্যাণ সভা ও ঈদ উপহার বিতরণ আমতলীর কান্তার খালের উপর ঝুকিপূর্ন লোহার সেতু জনগনের চলাচলে ভোগান্তি ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমতলীর ৩৫ হাজার ৫৮৬ টি পরিবার পাচ্ছে আর্থিক সহায়তা
সিলেট বিভাগের সকল জেলায় জেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহীগন যোগাযোগ করুন somoysongjog24@gmail.com

নীলফামারীতে একই কলেজের ৪০জন শিক্ষার্থী পেয়েছে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হতে খাচ্ছে হিমসীম

মোঃ সোহেল রানা, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৬ Time View
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে বন্ধু সূলভ অচরণই প্রতিবছর বয়ে আনে অনাবিল সাফল্য। আর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে  প্রতিবছর দেখা যায় এইচএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ। এবছরেও অটোপাসে জিপিএ ৫পেয়েছে ২০৮জন শিক্ষার্থী । আর এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪০জন জায়গা করে নিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সরকারী মেডিকেল কলেজে। তবে দরিদ্র পরিবারের কিছু শিক্ষার্থী থাকায় শুরুতেই আশার হাল ছাড়তে হচ্ছে অনেককে। এই মহুর্তে কোন বে-সরকারী বা সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলেই দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের ফুটে উঠবে উজ্জল ভবিষ্যৎ দাবী সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের।
নীলফামারী সৈয়দপুর সেনানিবাসের সামনে ১৯৬৫ সালে সৈয়দপুর কারিগরি বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। আর ১৯৭৭ সালে কলেজ শাখায় রুপান্ত্রিত হওয়ায় নামকরণ করা হয় সৈয়দপুর কারিগরি মহাবিদ্যালয়। তবে গেল বছর প্রতিষ্ঠানটির নামের পরবর্তন ঘটিয়ে নামকরণ করা হয়েছে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ। ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত হাজারেরও উর্ধ্বে শিক্ষার্থী থাকলেও ছাত্রাবাস রয়েছে মাত্র ১টি আর আসন সংখ্যা রয়েছে মাত্র ৯০জনের। সাধারনত বেশীর ভাগ দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরাই ব্যবহার করে ছাত্রবাস। এতে বাদ পড়া অনেক অসহায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে করতে হয় অধ্যায়ন।
সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক বলেন, সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ উত্তর বঙ্গের উন্নতমানের কলেজ গুলোর মধ্যে একটি। প্রায় ১২’শ শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে এই প্রতিষ্ঠান। সেক্ষেত্রে মাত্র একটি ছাত্রাবাস আছে। সেখানে মাত্র ৯০জন শিক্ষার্থী থাকতে পারে। আর এই প্রতিষ্ঠানে ভালো ফলাফলের আশায় অনেক শিক্ষার্থীয়ে আসে বাহিরের জেলা গুলো থেকে।  আমাদের এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বাসস্থানের দিক বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, এখানে খুব বেশী প্রয়োজন একটা ছাত্রীনিবাস এমনকি অধিক গুরুত্ব পূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে আরও একটি ছাত্রাবাস। বাহিরে থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে বর্তমানে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছে। আবাসন ব্যবস্থা হলে শিক্ষার্থীরা দূর্ঘটনা, নিরাপত্তাহীনতাসহ বিভিন্ন বাহ্যিক দিক গুলো পাশ কাটিয়ে আরও তাড়াতাড়ি শিক্ষার গুনগতমান ঠিক রেখে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পাড়বে।
রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী রিফাত আহমেদ বলেন, আমাদের ব্যাচের ৪০ জন শিক্ষার্থী এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে যা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে। তবে আমার মতো বেশ কয়েকজনের পরিবার হতদরিদ্র। আমরা সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে অধ্যায়ন বেশ আর্থিক সহায়তা পেতাম। কিন্তু বর্তমানে মেডিকেলে পড়তে গেলে অনেক খরচ। যা আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না । সরকার বা কোন বৃত্তবান যদি আমাদের পাশে দাড়াতে। তাহলে আমরা হয়তোবা আমাদের স্বপ্ন গুলো পূরণ করে অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতাম ।
সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম আহমেদ ফারুক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনকাল থেকেই ঐতিহ্যগতভাবে অসহায় মেধাবীদের ভর্তির ব্যাপারে একদম স্বচ্ছ। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ায় প্রতিবছর পাশের হার দেখা যায় শতভাগ।  দক্ষ, যোগ্য , ডেডিকেটেট শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে থাকে। বাহিরের থেকে আসা শিক্ষার্থীদের একদম বুঝতে দেয়া হয় না যে তারা পরিবার ছাড়া এখানে আছে। সবাই খুবে অময়িক হওয়ার কারণে নিজের পরিবারে মতো প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে থাকে। এখানে অনেক দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে। শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের আর্থিকভাবে সাহায্য করে। তবে প্রতিবছর মতো এবছরেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেডিকেল কলেজ গুলো ৪০ জন যোগদানের ফলাফল পেয়েছে।আরও ৩জন অপেক্ষারত রয়েছে শিঘ্রই তাদের রেজাল্ট বের হবে। তবে তাদের মধ্যে কিছু দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী আছে। যাদের বাবা-মায়ের পক্ষ্যে পড়ালেখা অর্থ যোগান দিতে সক্ষম হয়নি। আমরা কিন্তু তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে কোন রকমের কমতি বুঝতে দেই নাই। আমি আশা করবো যদি শিক্ষার্থীদের যাদের বইটুকু কেনার সামর্থ নাই । সরকার বা বে-সরকারী কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন বৃহত্তর মহল যদি শিক্ষার্থীদের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতো। আমার মনে হয় তারা একদিন তাদের মূল গন্তব্যে পৌঁছাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: মোঃ জহিরুল ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib