শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০৮ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
৮ দিনেও খোঁজ মেলেনি চুরি হওয়া নবজাতকের ধারের ১০ কেজি চাল ফেরৎ চাওয়ায় ভাইয়ের ছেলের হাতে চাচা খুন! আটক তিন। বানারীপাড়ায় অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন চির নিন্দ্রায় শায়িত নওগাঁয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েও বাড়িছাড়া প্রতিবন্ধী পরিবার ত্রিশা‌লে জাতীয় কৃষক স‌মি‌তির সমা‌বেশ অনু‌ষ্ঠিত বাগেরহাটে চার দফা দাবিতে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের মানবন্ধন বাগেরহাট জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের নব গঠিত কমিটির পরিচিতি সভা মোরেলগঞ্জ আওয়ামী লীগ ১৭ বিদ্রোহী প্রার্থী কে দল থেকে বহিস্কার নওগাঁয় ৪ উপজেলার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৪৪ জেলে সহ ৪ টি ফিশিং ট্রলার আটক
সিলেট বিভাগের সকল জেলায় জেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহীগন যোগাযোগ করুন somoysongjog24@gmail.com

নির্মাণকাজের আড়ালে কোটি টাকার বাণিজ্য ধরাছোঁয়ার বাইরে ঠিকাদার, দায়সারা বক্তব্য এলজিইডি কর্মকর্তার

লিমা আক্তার ময়মনসিংহ
  • Update Time : সোমবার, ১৪ জুন, ২০২১
  • ১২৩ Time View
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতায় দেশের জেলা-উপজেলায় রাস্তা নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী তথা ইট, খোয়া ও পাথর ব্যবহার এবং যেনতেনভাবে কার্পেটিং, সঠিক পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার না করার কারণে রাস্তা নির্মিত হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যায়।এমনকি এক পাাশ দিয়ে রাস্তা পাকাকরণ হচ্ছে, অন্য পাশ দিয়ে কার্পেটিং চটা ধরে উঠে যাওয়ার ঘটনাও ভুরি ভুরি। ‘ রাস্তার উন্নয়ন, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে বিটুমিনের পরিমাণ ও পাথরের গ্রেডেশন ঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত করতে দেশের সব জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খান। গত ১৬ আগস্ট নির্বাহী প্রকৌশলীদের পাঠানো ওই চিঠিতে কার্পেটিং কাজে বিল প্রদানের আগে প্রতি দুই হাজার বর্গমিটার পর পর নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে বিটুমিন এক্সট্রাকশনের মাধ্যমে বিটুমিনের পরিমাণ ও ব্যবহৃত পাথরের গ্রেডেশন টেস্ট করার নির্দেশ দেন তিনি।
এত বিধিনিষেধ আরোপ করার পরও  রাস্তা নির্মাণে দূর্নীতি অনিয়ম এমনকি নির্মাণ কাজের আড়ালে কোটি কোটি টাকার অর্থ বাণিজ্য করার নেশায় মত্ত রয়েছেন অসাধু কিছু প্রকৌশলী এবং ঠিকাদার গন।এমনটাই চিত্র ভেসে উঠেছে ময়মনসিংহে ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে এলজিইডি কর্তৃক বরাদ্দকৃত রাস্তা নির্মাণে।জানা যায়,উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বিরুইজীনি খালের পুল থেকে ভবানীপুর মহিলা মাদ্রাসা পর্যন্ত(চলমান),জয়পুর থেকে খলাবাড়ি পর্যন্ত(চলমান), মহেশপুর বাজার থেকে যমুনার পাড় স্কুল পর্যন্ত(পাকাকরণ সম্পন্ন)
মহেশপুর বাজার থেকে ধুলিকুড়ি ব্রীজ পর্যন্ত (পাকাকরণ সম্পন্ন), ভবানীপুর নিন্ম মাধ্যমিক স্কুল থেকে জাবে মন্ডলের ঘাট পর্যন্ত  (পাকাকরণ সম্পন্ন) পাঁচটি রাস্তার কাজ ঠিকাদার বিশ্বজিৎ কে দেয়া হয়। বিশ্বজিৎ রাস্তাগুলোর নির্মাণ কাজ ঠিকাদার মঞ্জু নামের একজন কে হস্তান্তর করেন। তিনটি রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পনেরো দিনের মধ্যে রাস্তায় বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে এবং রাস্তার দুপাশের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাচ্ছে।আর বাকি চলমান দুটি রাস্তায় সিডিউল অনুযায়ী ভালোমানের ইট ব্যবহার করার কথা থাকলেও বাস্তবে দেয়া হয়েছে নিম্নমানের ইটের খোয়া।অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এলজিইডির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে  নিন্মমানের ইটের খোয়া দিয়েই কাজ শুরু করেন এবং অনিয়মের মধ্য দিয়েই তিনটি রাস্তা পাকাকরণ সম্পন্ন করেন।অজ্ঞাত কারনে রাস্তা ৩টি পাকা করনের কাজে শুরু থেকেই মানা হয়নি কোন সিডিউল। ঠিকাদার তার খেয়াল খুশিমত কাজ করেলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ছিল নিরব। সরেজমিনে দেখা যায়,পাকা রাস্তাগুলো নির্মানের পনেরো দিনের মধ্যে রাস্তা ভেঙ্গে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে খালের উপরে ব্রীজের গাইডওয়াল তৈরি করা হয়েছে কোন রকম রড, সিমেন্ট ছাড়াই শুধুমাত্র মাটি ও নাম্বার বিহীন ইট দিয়ে এতে রাস্তার দুপাশের গাইডওয়ালগুলো ভেঙে যাচ্ছে। চলমান রাস্তাগুলোতে বালুর পরিবর্তে মাটি এবং নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার
করা হচ্ছে এতে করে রাস্তা বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ডেবে যাচ্ছে এবং বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করে প্রতিবেদককে জানান, এলজিইডি কর্মকর্তার যোগসাজশে নিন্মমানের কনক্রীট ব্যবহার করে আমজনতার সাথে রাস্তা নির্মাণের নামে প্রহসন করেছেন ঠিকাদার মঞ্জু।কেউ কোন প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন হুমকি সহ মেরে ফেলার ভয় দেখান প্রভাবশালী এ ঠিকাদার। এদিকে বিষয়টি নজরে আসলে এলাকাবাসীর পক্ষে ভবানীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট ফজলুল হক দুলাল এলজিইডি কর্মকর্তা এবং ঠিকাদার কে নিম্নমানের কাজের জবাবদিহিতা চেয়ে আদালতের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরন করেন। তাছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগীয় পর্যায়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ফজলুল হক দুলাল বলেন, এলজিইডি কর্মকর্তা এবং ঠিকাদার মঞ্জুর দূর্নীতি ও অনিয়মের কর্মকান্ডে এলাকার সাধারণ জনগণ সহ সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।এতে করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেকসই উন্নয়ন কে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট এসব দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুর মল্লিক জীবন বলেন, এক শ্রেণীর অসাধু ঠিকাদারগন এলজিইডি কর্মকর্তার সহায়তায় সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করছেন যা মোটেও কাম্য নয়। তিনি আরও বলেন, তার ইউনিয়নের রাস্তা নির্মাণে নিন্মমানের কনক্রীট ব্যবহার করা হয়েছে জানার পর এলজিইডি কর্মকর্তা কে বিষয়টি অবগত করেন তিনি।এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর মুঠোফোনে কল দিলে রিছিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।বার বার অভিযোগ করার পরও এ বিষয়ে এলজিইডি কর্মকর্তা কেন নিরব ভূমিকা পালন করছেন, দায়সারা কথা বলছেন এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন জেগেছে জনমনে?

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: কাওসার হামিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib