বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ০৪:০৭ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

শাকিল আহমেদ, জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০
  • ৫৬ Time View
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জামালপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পানি বেড়ে চলেছে। এতে জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ির নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, শনিবার বিকেল ৭টায় যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ১৯.৮০ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অর্থাৎ পানি দ্রুতগতিতে বাড়ছে এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি ফেরিঘাট পয়েন্টে ১৪.৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বাড়ছে দ্রুত গতিতে। নদীপাড়ের নিম্নাঞ্চলের ফসলের খেত, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এরমধ্যে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সদরের কিছু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মেলান্দহের মাহমুদপুর থেকে ইসলামপুরের উলিয়া সড়ক যোগাযোগ। পানির তীব্র স্রোতে দেওয়ানগঞ্জের মণ্ডল বাজার এলাকায় সড়ক ভেঙে পড়ায় দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে মানুষ। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যমুনাপাড়ের বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। দেওয়ানগঞ্জের চিকাজানী ইউপির খোলাবাড়ি, বরখাল ও মাদারগঞ্জের জমথলে যমুনায় ভাঙছে বাড়িঘর, গাছপালা ও ফসলি জমি।
বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউপির দক্ষিণ চিনাডুলি, দেওয়ানপাড়া, ডেবরাইপ্যাচ, বলিয়াদহ, পশ্চিম বামনা, বেলগাছা ইউপির কছিমার চর, দেলীপাড়, গুঠাইল, সাপধরী ইউপির আকন্দপাড়া, পূর্ব  চেঙ্গানিয়ারসহ নদীপাড়ের আরো বেশকটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। পার্থশী, নোয়ারপাড়া ও পলবান্দা ইউপির লোকালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করছে।
ইসলামপুরের সাপধরী ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, এই ইউপির নতুন চরাঞ্চলে আষাঢ় মাসেই অতিরিক্ত বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে সাপধরীর প্রজাপতি, চরশিশুয়া, চরনন্দনের পাড়া, আমতলি, কাশারীডোবা, কটাপুর, ইন্দুল্যামারী, আকন্দপাড়া, কোদাল ধোয়া, মণ্ডলপাড়া, বিশরশি ও চেঙ্গানিয়ায় অসংখ্য কৃষকের পাট ও আউশ ধানখেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব চরাঞ্চলের অন্তত ৫ হাজার বাড়িঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এরমধ্যেই বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।
ইসলামপুরের বেলগাছা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, এ বছরের আগাম বন্যায় যমুনার বুকে জেগে উঠা খোলাবাড়ী, জিগাতলা, বরুল, মন্নিয়া ও বেলগাছায় কৃষকের পাট ও ধানখেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
ইসলামপুর ইউএনও মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া ও আগাম বন্যার বিষয়টি আমরা পযবেক্ষণ করছি। বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সবাইকে নিয়ে বন্যা মোকাবিলায় কাজ করা হবে। এছাড়াও ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ইসলামপুর উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি দেখতে শনিবার বিকেলে পরিদর্শন করেছেন জামালপুরের এডিসি (সার্বিক) মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি চিনাডুলী ইউপির দক্ষিণ চিনাডুলী, দেওয়ানপাড়া, ডেপরাইপ্যাচ, শিংভাঙ্গা, বামনা, নোয়ারপাড়া ইউপির কাজলা কাঠমা, মাইজবাড়ী, বেলগাছা ইউপির গুঠাইল বন্যাকবলিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জামান আব্দুর নাছের বাবুল, ইউএনও মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন ছিলেন।
পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বকশীগঞ্জের সাধুরপাড়া ইউপির মদনের চর, বিলেরপাড়, ডেরুরুবিল, চর গাজীরপাড়া, উত্তর আচ্চাকান্দি, কতুবেরচর, বাংগালপাড়া, নয়াবাড়ি, চরকামালেরবার্ত্তী, চর আইরমারী গ্রাম, মেরুরচর ইউপির মাইছানিরচর, ভাটি কলকিহারা, উজান কলকিহারা, পূর্ব কলকিহারা, চিনারচর, বাঘাডুবি, খেওয়ারচর, ঘুঘুরাকান্দি ও ফকিরপাড়া গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
ঘোষেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান জানান, এই ইউপি চরাঞ্চল হওয়ায় একটু বৃষ্টি পানিতেই বন্যা হয়ে যায়। বন্যা মোকাবিলার জন্য আংশিক প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ও সহযোগিতা পেলেই পুরোপুরি প্রস্তুতি নেব।
এছাড়া সরিষাবাড়ির আওনা, কুলপালচর, কুমারপাড়া, নলসন্ধ্যা, মিরকুটিয়া, কাজলগাঁও, দমোদরপুর, চর পোগলদিঘা, কালিপুর, শ্যামপুর, মালিপাড়া, বিন্নাফৈর, টাকুরিয়া, মানিক পোটল, গোবিন্দ পোটল,  চর সরিষাবাড়ি, চর নান্দিনা, আদ্রা, ছাতারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাইদ বলেন, নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে বন্যা দেখা দিয়েছে। যমুনায় খুব দ্রুত গতিতে পানি বাড়ছে। সেই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদীর পানিও বাড়ছে। বন্যা মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: মোঃ জহিরুল ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib