শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
অতিবর্ষণে আমতলীর জন-জীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে তলিয়ে গেছে রোপা আমন ধানের তেসহ মাছের ঘের, পুকুর ও পানের বরজ কলারোয়ায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো ও মাঠ দিবসে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। রংপুরে নারী সুরক্ষা বাস্তবায়ন পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত নারী নির্যাত‌নের বিরু‌দ্ধে জনস‌চেতনতা বৃদ্ধিতে ফেস্টুন ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচী‌ পালিত কচুয়ায় নারী জনপ্রতিনিধিদের পরিকল্পনা ও বাজেট বিষয়ক প্রশিক্ষণ বাগেরহাটে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত বাগেরহাটে ভোর থেকে বিরামহীন বৃষ্টি, বিপর্যস্ত জন জীবন নোয়াখালী সুবর্ণচরে ৫ টুকরো করে হত্যার রহস্য উদঘাটন,ছেলেসহ আটক ৫ আজ থেকে টানা ৬ দিন বন্ধ থাকছে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ মাধবপুরে ভারতীয় মদ উদ্ধার

‘ক্রেতাদের পকেট কাটছে মেগামার্ট ও সানাই শপিংমল!’

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১০ মে, ২০১৯
  • ২৫৩ Time View

আনোয়ার হাসান চৌধুরী, কক্সবাজার:
পবিত্র মাহে রমজানেও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গলাকাটা বাণিজ্য চলছে। মাত্র ১৪০০ টাকায় কেনা নারীদের একটি জামা বিক্রি করা হয় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায়। ৫ হাজার টাকার কাপড়গুলো বিক্রি করা হয় সর্বনিম্ন ১৯ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিদেশি শাড়ী বাজামা গুলোর দাম তো প্রায় নাগালের বাইরেই।
এভাবে ক্রেতাদের গলা কাটছে কক্সবাজার শহরের মেগামার্ট ও সানাই ক্লথিং অ্যান্ড কসমেটিক্স শপিংমল। কাপড় ও প্রসাধনীর জন্য শহরের সবচেয়ে বড় এ দুটি শপিংমল। এত বড় শপিং হওয়া স্বত্বেও কোন কাপড়ের সঠিক বিক্রয় মূল্য ও মূল্য তালিকা নেই। শপিংমল কর্তৃপক্ষ নিজেদের ইচ্ছেমত অতিরিক্ত দাম হাকিয়ে বিক্রি করে প্রতিটি কাপড়। নির্ধারিত দামের তিন থেকে চারগুণ বেশি দাম আদায় করায় মারাত্মক ভাবে ঠকছে ক্রেতারা। রমজানের ঈদ উপলক্ষ্যে মেগামার্ট ও সানাই শপিংমলে মূল্য বেড়ে গেছে আরও কয়েক গুণ।
ক্রেতাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে এ দুটি শপিংমলে হানা দেয় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিন্নাত শহীদ পিংকি। শুরুতে মেগামার্টে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম প্রায় এক ঘণ্টা সময় পার করে। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতিরিক্তি দাম আদায়, কৌশলে ক্রেতাদের ঠকানো, ক্রয়মূল্য তালিকা গোপন করাসহ বিভিন্ন অপরাধ খুঁজে বের করেন। অভিযান চলাকালে কৌশলে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে মেগা মার্টের মালিক। পরে মেগামার্টের মালিক জহিরুল ইসলামকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালীন সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, অভিযান চলাকালে স্টিকারে উল্লেখিত মূল্য এবং ক্রয় মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য খুঁজে বের করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেগামার্টের মালিকের কাছে ক্রয়মূল্য ভাউচার দেখতে চান। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টা সময় নিয়েও ক্রয় মূল্যের ভাউচার দেখাতে ব্যর্থ হয় মেগামার্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া প্রতিটি কাপড়ের উপর যে মূল্য লিখে দেওয়া হয়েছে, সেটি কিসের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে জানতে চাইলেও কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তারা। অভিযানে মারাত্মক ভাবে গ্রাহক ঠকানোর প্রমাণ পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
কিছুদিন আগে মেগামার্ট থেকে বউয়ের জন্য বিয়ের শাড়ি কিনেছিলেন এক ব্যক্তি। কাকতালীয় ভাবে বৃহস্পতিবার অভিযানের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগি ওই ক্রেতা। যে শাড়ি তিনি ১৯ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেছিলেন; অভিযানের সময় সেই শাড়ির বিক্রয় মূল্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জানান মাত্র ৫ হাজার টাকা। তার কাছ থেকে প্রায় চারগুণ অতিরিক্ত মূল্য হাতিয়ে নিয়েছিল মেগামার্ট কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগি ওই ক্রেতা জানান, সারা বছরজুড়ে গলাকাটা বাণিজ্য করে মেগামার্ট। নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে তারা। রমজানের ঈদে হলেও অন্তত এসব কসাইদের নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। মেগামার্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হওয়ায় সন্তুষ্ট তিনি।
একই ভাবে সানাই ক্লথিং অ্যান্ড কসমেটিক্স শপিংমলেও গলাকাটা বাণিজ্য চলছে। মূল্য তালিকা প্রদর্শন ছাড়া নিজেদের ইচ্ছেমত দাম বসিয়ে দেশি-বিদেশি কাপড়ি বক্রি করে ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে নির্ধারিত দামের ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি দাম।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিন্নাত শহীদ পিংকি বলেন, মেগামার্ট ও সানাইতে চরম গলাকাটা বাণিজ্য চলছে। নূন্যতম নিয়ম-কানুন মানা হচ্ছেনা। কৌশলে গ্রাহকদের আর্থিকভাবে ঠকানো হচ্ছে। নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা, অবহেলা দ্বারা সেবা গ্রহীতার অর্থহানি এবং বিক্রয়যোগ্য মূল্যের ভাউচার না থাকায় ভোক্তা অধিকার আইনে ৪০ হাজার টাকার জরিমানা করা হয়। একই অপরাধে সানাইকেও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ঠকার জন্য গ্রাহকরাও কমবেশি দায়ী। মেগামার্টসহ বেশ কয়েকটি দোকানে দেখলাম নারী ক্রেতারা কখনো ক্রয়মূল্য বা মূল্য তালিকা দেখতে চায়না। দোকানদাররা যে দাম হাঁকিয়ে বসে, সেটি কোন রকম কষাকষি করে কিনে নেয়। এর ফলে তাদেরকে অতিরিক্ত মূল্য দিতে হয়। তাই অতিরিক্ত দাম আদায়ে ঠেকাতে শুধু অভিযান করলে হবেনা গ্রাহকদেরও সচেতন হতে হবে। রমজান জুড়ে কোন ক্রেতা অভিযোগ করার সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিন্নাত শহীদ পিংকি বলেন, প্রতিটি দোকান বিশেষ করে কাপড়ের দোকান গুলোকে প্রকাশ্যে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়া হয়। পুরো রমজান মাসে এ ধরনের অভিযান আরো পরিচালনা করা হবে। কোন অবস্থাতেই অতিরিক্ত দাম আদায় করতে দেয়া যাবেনা।
অভিযানের সময় সেখানে উপস্থিত ক্রেতারা প্রশাসনেরএ মন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। কয়েকজন নারী ক্রেতারা জানান, কাপড়ের দোকানদাররা ইচ্ছেমত দাম নির্ধারণ করে দেয়। বিশেষ করে রমজানে মাত্র ১হাজার টাকার কাপড় ৩ হাজার টাকা আর ৩ হাজার টাকার কাপড় ৬ হাজার টাকা হয়ে যায়। তাদের সাথে ঠিকমত কথাও বলা যায়না। এক্ষেত্রে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: সময় সংযোগ টুয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib