শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৩১ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
তালতলীতে ছাত্রদলের কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে ১১ নেতার পদত্যাগ টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ ঝালকাঠির নলছিটিতে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা শেরপুরে পৌর নির্বাচনে আ’লীগ-বিএনপির মনোনয়ন পেতে প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ চুয়াডাঙ্গা -কুষ্টিয়া মহাসড়কে আলমসাধু ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১ সিপিএসসি, র‌্যাব-১৩ কর্তৃক রংপুর জেলার মিঠাপুকুর এলাকা থেকে ২১.৫ কেজি গাঁজা ও ৩৫৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, ট্রাক জব্দ। মাধবপুরে দ্রুতগামী এনা বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত, রাস্তা অবরোধ। ঝালকাঠিতে শহীদ মিনার ভেঙে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অবৈধভাবে স্টল নির্মাণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের জন্য জবির ১৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি খাগড়াছড়িতে সড়ক দূর্ঘটনায় মোটর সাইকেল আরোহী নিহত। মাধবপুর পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কুয়াকাটা আবাসিক হোটেলে স্বামী কর্তৃক আশুলিয়ার বিউটিশিয়ান কান্তা হত্যার রহস্য উন্মোচন

জনি আলমগীর, কুয়াকাটা (পটুয়াখাল) প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩০৯ Time View
কান্তার ব্যক্তিগত  ফেসবুক  স্ট্যাটাসে  স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগর কে  প্রতারক লম্পট ও অসহায়ওকে  জিম্মি করে  একাধিক  মেয়ের জীবন  নষ্ট করার কথা  লেখায়  কান্তাকে গলা টিপে হত্যা করেছে স্বামী, গত দুই বছর আগে  ভালোবাসার অভিনয় করে  ভারতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রী মারিয়া  কান্তার  মন জয়ের চেষ্টা করে এতে সফল হন স্বামী সাগর, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার আশুলিয়ায় কান্তা বিউটি পার্লারের মালিক মারজিয়া কান্তাকে নিয়ে স্বামী ঘুরতে বের হয ২০১৮ সালের একুশে  সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থেকে স্বামী প্রথমে শরীয়তপুর আবাসিক হোটেল নুর ইন্টারন্যাশনালে এসে রাত কাটায় সেখানে স্বামী শহিদুলের মামাতো ভাই মামুন এসে তাদের সাথে যুক্ত হয় এরপর দিন তারা শরীয়তপুর থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে এসে আবাসিক হোটেল আল মদিনা বি ১ নাম্বার কক্ষে উঠেন তারা
আবাসিক হোটেল আল মদিনার কক্ষে গলা টিপে হত্যার প্রায় দুই বছর পর পিবিআই’র তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্বামী ও তার এক সহযোগী কান্তাকে নিয়ে ওই হোটেলে পর্যটক হিসেবে ওঠার পর কোন এক সময় তাকে হত্যা করে পলিথিনে লাশ মুড়িয়ে খাটের নিচে রেখে দুই খুনি পালিয়ে যায়। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বিকেলেও ওই হোটেল কক্ষে তালা ঝুলতে দেখে কোন সাড়াশব্দ না পাওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে মহিপুর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে কান্তার ব্যবহৃত জামাকাপড় জব্দ করে নিয়ে গেলেও বক্স খাটের নিচে লাশ থাকার বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি। এর দুই তিন দিন পর ওই কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বেরুলে হোটেল ম্যানেজার আমির এবং হোটেল বয় সাইফুলের নজরে এলে তারা হোটেল মালিককে জানায়। হোটেল মালিক দেলোয়ার ও তার ছোট ভাই আনোয়ার এবং ম্যানেজার আমির ও বয় সাইফুল চারজনে মিলে হত্যার আলামত নষ্ট করে লাশ গুমের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত এগারটার দিকে বস্তায় ভরে দোলোয়ার ও আনোয়ার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম দিকে লেম্বুরচর এলাকায় আন্ধার মানিক নদী মোহনায় লাশ ভাসিয়ে দেয়।এরপর তারা এবিষয়টি নিয়ে আর কোথাও মুখ খোলেনি। এভাবে ঘটনাটি আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষের ধামাচাপা দেবার অপচেষ্টা এবং খুনিরা এতদিন ধরা ছোয়ার বাইরে থাকলেও পিবিআইর তদন্তে হত্যকান্ডের রহস্য দুই বছর পর উন্মেচিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নরসিংদী জেলার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ইন্সপেক্টর মোঃ মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, বেলাবো থানার নরসিংদী জেলার সোহরাব হোসেন রতনের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার কান্তা ঢাকার আশুলিয়ায় বিউটি পার্লারের ব্যবসা করতেন। সেখানে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারীর শহিদুল ইসলাম সাগরের সাথে পরিচয়ের সূত্রে দুই লাখ টাকার কাবিননামায় মুসলিম শরীয়ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর মার্জিয়া কান্তা জানতে পারে তার স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগরের আরও স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বিষয়টি গোপন করে তাকে বিয়ে করায় সহজে মেনে নিতে পারছিল না কান্তা। এ নিয়ে কান্তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগরকে প্রতারক লম্পট হিসেবে তুলে ধরাই কাল হলো কান্তার জীবনে। এ ঘটনায় কৌশলের আশ্রয় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকান্ড করে পালিয়ে যায় প্রতারক স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগর। এঘটনার প্রায় একবছর পর নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগরসহ তার পরিবারের পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে হতভাগ্য মার্জিয়া কন্তার বাবা সোহরাব হোসেন রতন বাদী হয়ে গত ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ হত্যা করে লাশ গুমের মামলা দায়ের করে। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে নরসিংদীর বেলাবো থানায় এজাহার হিসেবে গণ্যকরে তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরবর্তিতে আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে। অভিযুক্ত স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগরকে গ্রেফতারের পর তদন্তের হালে পানি পায়। এরপর সহযোগী অপর খুনি মামাত ভাই মামুন পিবিআইর জালে চলতি বছর ১ সেপ্টেম্বর ধরা পড়লে তদন্তের আরও গতি পায়। মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাকে নিয়ে পিবিআই কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল আল-মদিনায় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) অভিযানে গেলে খুব সহজেই হোটেল মালিক দোলোয়ার ও তার ছোট ভাই আনোয়ার ও হোটেল ম্যানেজার এবং বয় মার্জিয়া কান্তার লাশ গুমের সত্যতা স্বীকার করলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরপর কুয়াকাটা থেকে তাদের চারজনকে নরসিংদী নিয়ে যায় পিবিআই।

মামলার তদন্তের বিস্তারিত অগ্রগতি তুলে ধরে পিবিআই তাদের নরসিংদী কার্যালয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাÐ ও লাশ গুমের সত্যতা স্বীকার করেছে বলে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নরসিংদী পিবিআইর পরিদর্শক মোঃ মনিরুজ্জামান গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করার কথা জানিয়েছেন। মহিপুর থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, হোটেলে অবস্থানকারীরা ভাড়া পরিশোধ না করেই তাদের ব্যবহৃত কিছু জামাকাপড় রেখে পালিয়েছে মর্মে হোটেল আল মদিনার পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ওইসব ব্যবহৃত জামাকাপড় তখন জব্দ করে থানায় রাখে। পরবর্তীতে খাটের নিচে লাশ পাওয়ার বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে হোটেল মালিক ও কর্মচারীরা আলামত নষ্ট করে লাশ গুম করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: মোঃ জহিরুল ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib