শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
অতিবর্ষণে আমতলীর জন-জীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে তলিয়ে গেছে রোপা আমন ধানের তেসহ মাছের ঘের, পুকুর ও পানের বরজ কলারোয়ায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো ও মাঠ দিবসে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। রংপুরে নারী সুরক্ষা বাস্তবায়ন পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত নারী নির্যাত‌নের বিরু‌দ্ধে জনস‌চেতনতা বৃদ্ধিতে ফেস্টুন ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচী‌ পালিত কচুয়ায় নারী জনপ্রতিনিধিদের পরিকল্পনা ও বাজেট বিষয়ক প্রশিক্ষণ বাগেরহাটে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত বাগেরহাটে ভোর থেকে বিরামহীন বৃষ্টি, বিপর্যস্ত জন জীবন নোয়াখালী সুবর্ণচরে ৫ টুকরো করে হত্যার রহস্য উদঘাটন,ছেলেসহ আটক ৫ আজ থেকে টানা ৬ দিন বন্ধ থাকছে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ মাধবপুরে ভারতীয় মদ উদ্ধার

কিসের আবার ঈদ ? ভাত-ই খেতে পারিনা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০১৯
  • ১০৪ Time View
মোঃ হাইরাজ বিশেষ প্রতিনিধি
উপকূলের জেলে পল্লীর কান্না বাতাসে শুধুই হাহাকার ছড়ায়। সীমাহীন দুর্দশার মধ্যে, অনিশ্চয়তার অন্ধকারে তাদের দিনরাত এখন একাকার।
৬৫দিন অবরোধ জেলে পল্লীতে  ঈদের আনন্দ এখন বিলাসিতার নামান্তর।
ঈদের আনন্দ সবার হৃদয়ে কড়া দিলে ও ফকিরহাট, নিদ্রা, তেতুলবাড়িয়ার বঙ্গোপসাগর পাড়ের মানুষের অনুভূতি এখন ভিন্ন। উপকূলের এই জনপদে এখন শুধুই হাহাকার।
সারাদেশে ঈদের বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়  ঈদ মানেই নতুন জামা-জুতা ও আনন্দ উৎসব। কিন্তু বরগুনার তালতলী উপজেলার বেশির ভাগ জেলে তাদের সন্তানদের নতুন জামা কাপড় দিতে পারবেন না। যেখানে রমজানে সেহেরি  ও ইফতারের আয়োজন অনিশ্চিত  সেখানে ঈদ উৎসব তো বিলাসিতার নামান্তর। এবার তাই ঈদের আনন্দটা ফি কে তালতলীর জেলে পরিবারগুলোতে। আবার অনেককেই পরিবারের ছোট ছোট শিশুদের আব্দার মেটাতে এনজিও  থেকে  ঋণ করে ঈদের জামা-কাপড় কিনছে।
দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সাগরে অবরোধ থাকায় মৎস্যজীবীরা পেটের তাগিদে  অন্য পেশার দিকে ঝুকে পরছেন, কেউ দিনমজুর বা রিকশাচালক। তারা  কোনো প্রকারের সরকারি
সাহায্য পাচ্ছেন না। আবার বেকার জেলেরা কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরছেন প্রতিদিন শূন্য হাতে। মাছ ধরায় ব্যবহৃত নৌকা নদী থেকে ডাঙায় তুলে রেখেছেন।
প্রান্তিক জেলেরা জানান,  সাগরে  ৬৫ দিন অবরোধ মাছ ধরতে পারছিনা । ঘরে ছেলেমেয়ের খাবার ও সংসারের খরচপাতি নিয়ে মহাবিপদে আছি। ৬৫ দিন কিভাবে সংসারের খরচ জোগান দেবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।  ৬৫ দিনের অবরোধে  এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সাহায্য পাননি তাই দুশ্চিন্তার ভাঁজ কপালে ।
তেতুলবাড়িয়া গ্রামের জেলে জাকির বলেন  ,সাদা  ষ্টাম পেপারে শই দিয়ে কর্জ্য  (ঋণ) করে টাকা এনে ছেলেমেয়েদের জন্য নতুন কাপড় কিনেছি।  প্রতিবার রমজানে মাছ ধরে বিক্রি করে  পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনতাম। এ বছর হয়েছে কপাল খারাপ অবরোধ । ঘরে চাল নেই,  সাগরে অবরোধ  পেট  আর বাচ্চারা তো অবরোধ বুঝেনা ।
তেতুল বাড়িয়ার জেলে ইমাদুল বলেন, ছোট ছোট বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকানো যায় না। আমরা বড়রা বুঝি, কিন্তু বাচ্চারা তো বোঝে না। বার বার ঈদের কাপড়ের জন্য বায়না ধরে। কী হরমু কন ভাই ্য
খোট্টার চরের জেলে কাসেম  বলেন, খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকাই আমাদের একমাত্র স্বপ্ন। ঈদের কোনো প্রস্তুতি নেই। এ বছর অতিরিক্ত কোনো চাহিদা নেই। আমাদের একটাই চাহিদা, আমরা যেনো খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকতে পারি।
এ শুধু  তিন জন জেলের চিত্র  নয়। এমন  চিত্র  এবার উপকূলের হাজার হাজার জেলেদের । সবার একই কথা। কোনো রকমে খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকতে চান তারা। প্রত্যাশা অন্তত এ বছর যেনো তারা পরিবার নিয়ে একটু খেয়ে পরে জীবন কাটাতে পারেন- সরকার সেই ব্যবস্থা করে দিক।
এ বিষয় তালতলী উপজেলা মানব অধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক  মু. আঃ মুতালেব জানান বর্তমানে উপজেলার ১০ হাজার জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।  জেলেদের ঘড়ে ঈদের আনন্দ নেই বললেই চলে।’ ঈদ উপলক্ষে সরকারি কোনো সহযোগিতা না থাকলেও তিনি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন  যেনো অন্তত এই উপজেলার হতদরিদ্র পরিবারগুলোতে একটু চিনি এক প্যাকেট লাচ্চি সেমাই দেওয়ার।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: সময় সংযোগ টুয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib