মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে জয়পুরহাটে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভা গাজীপুরে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য মনোনীত হলেন ইউপি চেয়ারম্যান বাবু ১৫ নং সাংগঠনিক ওয়ার্ড ত্রি – বার্ষিক সম্মেলন হিলি সীমান্তের “বালুর চর বস্তিটি “যেন মাদকের অভয় আশ্রম মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত বাগেরহাটে ২ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জাল ভস্মিভূত ফকিরহাটে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবক আটক শরণখোলা উপজেলা পরিষদে উপ নির্বাচনে কাল, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম বাগেরহাটে সাত কর্মদিবসেই ধর্ষণ মামলার রায় এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন নালিতাবাড়ীতে উচ্ছেদ আতঙ্কে ভুগছে এক ভূমিহীন পরিবার

উত্তরাঞ্চলে নদনদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় রেড এলার্ড জারি

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯
  • ৭০ Time View

আলো রহমান আখি, রংপুর ব্যুরোঃ

উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদনদীগুলোর পানি ক্রমেই বেড়ে চলছে। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। চলতি সপ্তাহ জুড়ে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে, একই সঙ্গে বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান। গতকাল শনিবার দুপুরে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিবেদকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি ৫৩.১১ সেন্টিমিটার ও দোওয়ানি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র,ধরলা ও ছোট বড় নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে তিস্তা ব্যারেজের ফ্লাট বাইপাস ছুঁই ছুঁই পানি ব্যারেজ রক্ষার্থে যে কোনও মুহূর্তে ফ্লাট বাইপাস কেটে দেওয়া হতে পারে। পানি ঢুকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, গড্ডিমারী, বড়খাতা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়াও রেড এলার্ট জারি করে মাইকিং করা হচ্ছে। বন্যার পানি হাতীবান্ধা শহরসহ লোকালয়ে প্রবেশ করায় জেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তিস্তা পাড়ের লোকজন নিজ নিজ অবস্থান থেকে বালুর বস্তা দিয়ে পানি আটকে রাখার চেষ্টা করলেও বস্তার সংকটে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। তিস্তাা পাড়ের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিস্তা নদীর ভয়ংকর রূপ আর গর্জনে পানিবন্দি লোকজনের চোখে ঘুম নেই। বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটেও ভুগছেন তারা। একই অবস্থা দেখা দিয়েছে কুড়িগ্রামেও।

টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের দেড় শতাধিক গ্রাম প্লাাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৫০হাজার মানুষ। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৬ সে.মি ও ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২ সে. মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ছে তিস্তা ও দুধকুমার নদীতেও। কুড়িগ্রামের নদ-নদী অববাহিকার চর-দ্বীপচরগুলোতে এমন সময়ে নৌ ডাকাতি প্রতিরোধসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার ১১টি থানা পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান। সেই সঙ্গে গাইবান্ধায় আরও বেড়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। শনিবার সকাল ৯টায় নদের ফুলছড়ি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এতে করে তিস্তা,ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বেড়ে নদী তীরবর্তী চরসহ নিম্নাঞ্চলের অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন রংপুরের কুকরুল,কাউনিয়া,পীরগাছা,গংগাচড়া উপজেলার প্রায় ১ লক্ষাধিক মানুষ। গাইবান্ধা,সদর,সুন্দরগঞ্জ,ফুলছড়ি ও সাঘাটা, উপজেলার অন্তত ১০ হাজার মানুষ। জানা গেছে, যমুনা নদীবেষ্টিত সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, পালপাড়া, চিনিরপটল, চকপাড়া, পবনতাইড়, থৈকরপাড়া, বাশহাটা, মুন্সিরহাট, গোবিন্দি, নলছিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে পানি ঢুকেছে । তিস্তা ও ঘাঘট নদীবেষ্টিত সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রােতে বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বসতবাড়িতে বন্যার পানি ওঠায় গবাদি পশু নিয়ে অনেকে পড়েছেন বিপাকে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে স্রােতের তীব্রতাও। গত দু’সপ্তাহে নদী ভাঙনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর, কাপাসিয়া, তারাপুর, বেলকা, হরিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের আবাদি জমি, রাস্তাসহ শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, ধরলার সেতু পয়েন্টে ও ব্রহ্মপুত্র চিলমারী পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম সদরের চর যাত্রাপুরে গারুহারা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে ৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার সবকটি চরের আমন বীজতলা, পাট, ভুট্টা ও সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। নিচু এলাকার ঘর-বাড়ি ডুবে যাওয়ায় গবাদিপশু নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে।এছাড়াও ধরলার ভাঙনে সারডোব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। চিলমারীর নয়ারহাট ও অষ্টমীরচর ইউনিয়নের কয়েকটি চরে নদী ভাঙনে গত দুই দিনে ১৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: সময় সংযোগ টুয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib