শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৭ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচারের জন্য সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ করতে হবে বাগমারায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শোভাযাত্রা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে ১৯ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী অংশ নেয় গ্রেপ্তার ৪ রোহিঙ্গা আমতলীতে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২, আহত ২০ বিরামপুরে সীমান্ত এলাকায় ৮টি স্বর্ণের বারসহ আটক-১ আমতলী সরকারী কলেজ ৪৪ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন আমতলীতে ১০০ পিচ ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেফতার আমতলীতে ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক দু’ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা বাগমারায় জামাল-বাহিনী দ্বারা নির্মাণকৃত দোকান ঘর-ভাঙচুর- আতংকিত এলাকাবাসী বাগেরহাটে হিউম্যান রাইটস্ ডিফেন্ডার্স ফোরামের মানববন্ধন
সিলেট বিভাগের সকল জেলায় জেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহীগন যোগাযোগ করুন somoysongjog24@gmail.com

ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা, জাল বুনে ও নৌকা সংস্কার করে সময় কাটছে জেলেদের

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪৮ Time View

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারিভাবে ইলিশ ধরা, পরিবহন ও বিক্রিতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ কারনে বরগুনা জেলার আমতলী ও তালতলীর জেলেরা ইলিশ শিকারে যাচ্ছেন না। যতদূর চোঁখ যাচ্ছে নদীতে কোনো মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার দেখা যাচ্ছে না। জেলেরা বর্তমানে ডাঙায় উঠে এসেছেন। ডাঙায় এসেও তাদের কোন বিরাম নেই। নতুন করে জাল বুনা ও মেরামত করা এবং নৌকা সংস্কার করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

বরগুনা জেলায় প্রায় লক্ষাধিক জেলের বসবাস। এরমধ্যে আমতলী ও তালতলী উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ১৩ হাজার ৬২৫ জন। এরমধ্যে আমতলী উপজেলায় ৬ হাজার ৮৭৯ জন এবং তালতলী উপজেলায় ৬ হাজার ৭৪৬ জন। এসকল জেলেরা নদী ও সাগরে মাছ শিকার করেই তারা জীবিকা চালায়। দু’উপজেলার জেলেদের বিকল্প কোন কাজ নেই। মাছ শিকার করাই তাদের একমাত্র পেশা। মা ইলিশ রক্ষায় সরকারিভাবে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকায় এখন জেলেরা নতুন করে জাল বুনা, জালের রশি বদলানো, ছেঁড়া জাল মেরামত ও মাছ ধরার নৌকা সংস্কার করে বেকার সময় পার করছেন।

সরেজমিনে আমতলী ও তালতলী উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, স্থানীয় জেলেরা ডাঙায় বসে মাছ ধরার সকল উপকরণ ঠিকঠাক করে নিচ্ছেন। জেলেরা দল বেঁধে জাল বুনছেন আবার কেউ কেউ ছেড়া জাল মেরামত ও নৌকা সংস্কার করছেন।

কথা হয় আমতলীর গুলিশাখালী ইউনিয়নের নাইয়াপাড়া গ্রামের জেলে রফিকুল ইসলাম বিশ্বাসের সাথে। তিনি বলেন, এবার পায়ড়া (বুড়িশ্বর) নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ ধরা পড়েনি। বৈরী আবহাওয়ায় নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে জাল- নৌকার অনেক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। মহাজনের দাদনের টাকাও পরিশোধ করতে পারিনি। নতুন করে জাল কেনার পুঁজি না থাকায় বাধ্যহয়ে ছেঁড়া জাল সেলাই করে রাখছি। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে এই জাল দিয়েই আবার মাছ শিকার করতে নদীতে যাবো।

তালতলীর জয়ালভাঙ্গা এলাকার জেলে সফিকুল ইসলাম বলেন, ইলিশের ডিম ছাড়ার উপযুক্ত সময়ের ২০ দিন পূর্বেই সরকার ২২ দিনের অবরোধ দিয়েছেন। এটি ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কোন সুফল বয়ে আনবেনা। তারপরও সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা ডাঙায় উঠে এসেছি।

বরগুনা জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিষখালী, বুড়িশ্বর (পায়রা) ও বলেশ্বর নদীর ৪০টি পয়েন্ট নির্ধারণ করে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই সকল পয়েন্টে কেউ মা ইলিশ শিকার, কিংবা মজুদ এবং বিক্রি করলে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় নিয়ে এসে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দু’উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তারা জানায়, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারিভাবে ইলিশ ধরা, পরিবহন ও বিক্রিতে চলমান ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলে সংগঠন, মৎস্যজীবী, আড়ৎদারসহ ওয়ার্ড পর্যায়ে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্সের সভা করে করনীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে ইতোমধ্যে যে সকল এলাকায় ইলিশ সংরক্ষণের কার্যক্রম নেই ওই সকল এলাকার কর্মকর্তাদের বরগুনা জেলায় পদায়ন দেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: কাওসার হামিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib