শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
৮ দিনেও খোঁজ মেলেনি চুরি হওয়া নবজাতকের ধারের ১০ কেজি চাল ফেরৎ চাওয়ায় ভাইয়ের ছেলের হাতে চাচা খুন! আটক তিন। বানারীপাড়ায় অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন চির নিন্দ্রায় শায়িত নওগাঁয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েও বাড়িছাড়া প্রতিবন্ধী পরিবার ত্রিশা‌লে জাতীয় কৃষক স‌মি‌তির সমা‌বেশ অনু‌ষ্ঠিত বাগেরহাটে চার দফা দাবিতে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের মানবন্ধন বাগেরহাট জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের নব গঠিত কমিটির পরিচিতি সভা মোরেলগঞ্জ আওয়ামী লীগ ১৭ বিদ্রোহী প্রার্থী কে দল থেকে বহিস্কার নওগাঁয় ৪ উপজেলার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৪৪ জেলে সহ ৪ টি ফিশিং ট্রলার আটক
সিলেট বিভাগের সকল জেলায় জেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহীগন যোগাযোগ করুন somoysongjog24@gmail.com

আমতলীর শতাধিক সরকারী ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

আমতলী প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১
  • ২৩ Time View

বরগুনার আমতলী উপজেলায় শতাধিক সরকারি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই সকল ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অফিসের কাজকর্মসহ আবাসিক ভবনগুলোতে পরিবার- পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। ভবনগুলো জরাজীর্ণ হলেও সরকারিভাবে এগুলো সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গত ৮ থেকে ৩৫ বছর পূর্বে এসব ভবনের মধ্যে ১৫টি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার শতাধিক জরাজীর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করর্পোরেশন (বিএডিসি) দ্বিতল অফিস ভবন, বীজাগার, মেশিন রাখার ভবনও ২টি আবাসিকসহ মোট ৫টি ভবন। সংস্কারের অভাবে ৫টি ভবনই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ৩৫ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ভবনগুলো সংস্কারের অভাবে ধ্বংস্তুুপে পরিণত হওয়ায় দরজা-জানালার মূল্যবান কাঠ, টিন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় চুরি হয়ে গেছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিস কম্পাউন্ডের মধ্যে সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নামে তিনটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই ভবন তিনটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনের পশ্চিম পাশে সৈকত নামে একতলা একটি টিনশেড ভবনের অবস্থাও বসবাবাসের অনপুযোগী। এছাড়া উপজেলা পরিষদের ব্যাচেলর ডরমেটরি আবাসিক ডরমেটরির অবস্থাও নাজুক ও বসবাসের অযোগ্য। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বৃষ্টির পানিতে বসবাসকারীদের সব ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে।

এরশাদ সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদের কম্পাউন্ডের মধ্যে আনসার ভিডিপি, মহিলা বিষয়ক, সমাজসেবা অফিসের জন্য আধাপাকা টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয়। এসব ভবন দীর্ঘদিনেও সংস্কার না করায় টিনে মরিচা পড়ে ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় বর্ষার সময় পানি পড়ে ভিজে ওই ভবনে থাকা মূল্যবান কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ ভবনে থাকা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা জানান, বর্ষার সময় অফিসে বসা যায় না, সব জায়গায় পানি পড়ে মূল্যবার কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

একই অবস্থা কম্পাউন্ডের অভ্যন্তরে অবস্থিত পশ্চিম পাশের দ্বিতল পাকা ভবনটির। এ ভবনের নিচ তলায় রয়েছে সোনালী ব্যাংক, সমবায় অফিস, উপজেলা পরিষদের হল রুম, দোতলায় রয়েছে যুব উন্নয়ন অফিস, পরিসংখ্যান অফিস, খাদ্য বিভাগ, হিসাবরক্ষণ অফিস ও ভাইস চেয়ারম্যানের জন্য ১টি অফিস। এভবনটি অনেক পুরনো হওয়ায় প্রায়ই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। বৃষ্টিতে ছাদ চুয়ে পানি পড়ে, দেয়ালের বহু জায়গায় ফাটল ধরায় কর্মকর্তারা ঝুঁকি নিয়ে অফিস করছেন।

এ ভবনের নিচতলায় একটি রুমে বসেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রায়ই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার কারনে দিনের মধ্যে দু-একবার চেয়ার টেবিল সরাতে হয়।

দ্বিতীয় তলায় বসেন উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ আবু সালেহ। তিনি জানান, সারাদিন ভয়ের মধ্য দিয়ে অফিস করতে হয়। ছাদের লোহার রড বেরিয়ে গেছে। দরজা-জানালা অনেক পুরনো হওয়ায় ঠিকমতো আটকানো যায় না। তার উপড় বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বন বিভাগের জন্য রয়েছে আলাদা ২টি টিনশেড ভবন। অফিস ২টি খুবই জরাজীর্ণ। তবে কৃষি অফিসের জন্য সম্প্রতি একটি নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে। ২০০৭ সালে সিডরের সময় অফিস দুটির টিন উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার পর কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে সেখানে অফিস করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

উপজেলা প্রকৌলশী মোঃ আল মামুন মুঠোফোনে বলেন, উপজেলা পরিষদের অভ্যান্তরে নির্মিত অফিস ও কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনগুলো এখন আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। ভবনগুলোর ট্যাম্পারাচার না থাকায় এগুলো মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব না।

অপরদিকে ১৯৬৮ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জন্য বর্তমান পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে অফিস এবং পরিবার পরিজন নিয়ে কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য ৮টি একতলা ও দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। সংস্কারের অভাবে ৭টি ভবন এখন সম্পূর্ণ ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছে। এসব ভবনের দরজা, জানালা এমনকি অভ্যন্তরিন সড়কের ইট পর্যন্ত তুলে নিয়ে গেছে চোরের দল। এখানে এখন বহিরাগতদের বসবাস থাকলেও একটি ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবার- পরিজন নিয়ে কোনমতে বসবাস করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্য সহকারী আলমগীর হোসেন নামে এক কর্মচারী।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কায়সার আলম মুঠোফোনে বলেন, ওই ভবনগুলো এখন আর মেরামত যোগ্য না। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, অফিস ও আবাসিক ভবনগুলো সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনে আবারও জানানো হবে।

আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান মুঠোফোনে বলেন, নতুন অফিস ভবন নির্মানের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আবাসিক ভবনগুলো সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: কাওসার হামিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib