সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বঙ্গবন্ধু ১৭তম জাতীয় দূরপাল্লা সাঁতার প্রতিযোগিতা জয়পুরহাটে বিএনপির দুই নেতার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল রংপুরে নিষিদ্ধ পলিথিন সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে আটটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা অভিনব কায়দায় চার লাখ ৪০ হাজার ৩২৫ টাকা চুরি রাজবাড়ির বালিয়াকান্দিতে বাল্য বিবাহের দায়ে কনের বাবাকে জরিমানা রাজশাহী বাগমারায় এক গৃহবধূ কে যৌতুকের জন্য নির্যাতন থানায় মামলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে কাঙ্খিত লক্ষে এগিয়ে নিতে হবে, আমির হোসেন আমু রংপুরে অনুষ্ঠিত হলো শিখন বিনিময় কর্মশালা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি রংপুরে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির ক্যামেরা পারসনের ওপর হামলা সাংবাদিকদের অবস্থান ধর্মঘট কাউখালীতে ৫০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

আমতলীতে রোপা আমন ধানের ক্ষেতে পোকা- মাকড় দমনে কীটনাশকের বিকল্প পাচিং পদ্ধতি ও আলোক ফাঁদের ব্যবহার বেড়েছে

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩১ Time View

বরগুনার আমতলীতে রোপা আমন ক্ষেতে পোকা- মাকড় দমনে কীটনাশকের বিকল্প পাচিং পদ্ধতি ও আলোক ফাঁদের ব্যবহার বেড়েছে। পরিবেশ ও কৃষি বান্ধব হওয়ায় কৃষকের কাছে পদ্ধতি দুটি দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে ফসলে পোকা- মাকড় দমনে কীটনাশক ব্যবহারে আমাদের শরীরে নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখে দেয়। আবার ভালো ফসল পেতে পোকা- মাকড় দমন করাও জরুরী। এ অবস্থায় জমিতে রোপা আমন ধানের পোকা- মাকড় দমনে পাচিং পদ্ধতি ও আলোক ফাঁদ একটি পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি। তাই কৃষকরা পাচিং পদ্ধতি ও আলোক ফাঁদ ব্যবহারে বেশী আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় চলতি বছরে আমন ধানের আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়ছে ৩৩ হাজার ৪ শত হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বেশী।

সরজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, আবাদকৃত আমন ধানের বিভিন্ন জমিতে গাছের ডাল ও বাঁশের কঞ্চি (খুটি) মাটিতে পুঁতে রেখে পাচিং পদ্ধতি তৈরী করা হয়েছে। যাতে এসব ডালের উপর দোয়েল, ফিঙ্গে, শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি গিয়ে বসে রোপা ধান ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা- মাকড় খেয়ে ফেলতে পারে।

অপরদিকে ক্ষেতের পোকা দমনে পাচিং পদ্ধতির পাশাপাশি আলোক ফাঁদ তৈরী করছেন অনেক কৃষক। তারা ধান ক্ষেতের পাশে ফাঁকা জায়গায় বাঁেশর তিনটি খুঁটি ত্রিকোনাকার করে মাটিতে পুঁতে মাথার অংশ একত্রে রশি দিয়ে বেঁধে মাটি থেকে আড়াই- তিন ফুট উপরে একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে খুঁটির মাথার রশির সাহায্যে তা ঝুলিয়ে রাখছেন। এই বাল্বের নিচে একটি বড় আকাররে গামলা বা পাত্রে করোসিন মিশ্রিত পানি রেখে দেয়। সন্ধ্যার পরে মাঠ জুড়ে যখন অন্ধকার নেমে আসতে থাকে তখন ফাঁদের আলোর ঝলকে আকৃষ্ট হয়ে পোকা- মাকড়গুলো সেই বাল্বের নিচে থাকা পাত্রের পানিতে পড়ে মারা যায়। তাছাড়া অনেক কৃষক পোকা দমনে হ্যারিকেন বা সৌর বিদ্যুতের বাতি জ্বালিয়েও আলোক ফাঁদ তৈরি করেছেন।

এভাবে পাচিং পদ্ধতি ও আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে ফসলের মাঠে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা- মাকড়ের উপস্থিতি নির্নয় করে তা নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাচিং পদ্ধতি ও আলোক ফাঁদ তৈরীতে খরচ কম হয় এবং এটি পরিবেশ বান্ধব। তাই ধান ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি শনাক্তকরণ ও দমনে পাচিং পদ্ধতি এবং আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি উপজেলার কৃষকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

জমিতে ক্ষতিকর পোকার মধ্যে মাজরা পোকা, সবুজপাতা ফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা ও বাদামি গাছ ফড়িং (কারন্টে পোকা), সাদা পঠি গাছ ফড়িং ও গান্ধি পোকার উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়। উপকারী পোকার মধ্যে ড্যামসেল ফ্লাই, মাকড়সা, ক্যারাবিড বিটেল, লেডিবার্ড বিটেল ও ড্রাগন ফ্লাই ইত্যাদি উপস্থিতি রয়েছে।

উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, কৃষি অফিসের উদ্যোগে ধানের ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা- মাকড়ের উপস্থিতি শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে প্রতি বছররে ন্যায় রোপা আমন ধানের ক্ষেতে পাচিং পদ্ধতি ও আলোক ফাঁদ স্থাপনের কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। উপজেলার গুলিশাখালী, আঠারোগাছিয়া, কুকুয়া, হলদিয়া, চাওড়া, আমতলী সদর, আড়পাঙ্গাশিয়া ও পৌরসভার বিভিন্ন ক্ষেতে পাচিং পদ্ধতি ও আলোক ফাঁদ স্থাপন কার্যক্রম শুরু করেছে। উপজেলায় ২২টি বøক স্থাপন করে সেখানে ২২০টি আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে এবং ৬০% কৃষক পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কৃষক নানু চৌকিদার, কুকুয়া ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেন, আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের শানু দুয়ারী বলেন, ধান ক্ষেতে আলোক ফাঁদ ব্যবহারে পোকা দমন সহজ হয়েছে। এ পদ্ধতিতে আমরা আগের চেয়ে কম খরচে ক্ষতিকর পোকা দমন করতে পারছি। আবার উপকারী পোকা বাঁচাতেও আমাদের সুবিধা হচ্ছে। এতে যেমন আমাদের উৎপাদন খরচও কমেছে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পাচ্ছে এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ামুক্ত খাবার উৎপাদিত হচ্ছে।

হলদিয়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম ও চাওড়া চন্দ্রা গ্রামের শানু মিয়া বলেন, আমরা এ বছর রোপা আমন ধানক্ষেতে পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছি। আমরা ক্ষেতের মধ্যে অনেকগুলো গাছের ডাল (খুটি) পুঁতে রেখেছি। এসব ডালে পাখি বসে ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলছে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ূন কবির বলেন, আমরা এ বছর উপজেলায় ২২টি বøক স্থাপন করা হয়েছে। ১৫ জন উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এই সব বøকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি বøকে ১০টি করে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। এ ফাঁদের মাধ্যমে রোপা আমন ধানের জমিতে একদিকে যেমন পোকা- মাকড় দমন হচ্ছে অন্যদিকে জমিতে কি কি ক্ষতিকারক পোকা রয়েছে তা চিহ্নিত করে দমন করতে কৃষকদরে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

আমতলী উপজলো কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম বলেন, ক্ষতিকারক পোকা- মাকড় যাতে রোপা আমন ধানের ক্ষতি সাধন করতে না পারে এবং সঠিক সময়ে কৃষকরা যাতে পোকা দমনের ব্যবস্থা নিতে পারে সেজন্য উপজেলায় ২২০টি আলোর ফাঁদ স্থাপন করা হয়েেছ। এছাড়া প্রায় ৬০% কৃষক পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: মোঃ জহিরুল ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib