রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১১:২০ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ

আমতলীতে বিয়ে পাগল নিজাম মাতুব্বরের কান্ড॥ ষষ্ঠ বিয়েতে সম্মতি না দেয়ায় চতুর্থ স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করেছে

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১২ মে, ২০১৯
  • ১৬২ Time View

জেলা প্রতিনিধি, বরগুনা ।।
বিয়ে পাগল নিজাম মাতুব্বরের কান্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ষষ্ঠ বিয়েতে সম্মতি না দেয়ায় চতুর্থ স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। ঘটনা ঘটেছে বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব চুনাখালী গ্রামে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে আমতলী থানায় মামলা হয়েছে।
জানাগেছে, উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব চুনাখালী গ্রামের লেদু মাতুব্বরের ছেলে নিজাম মাতুব্বর গরুর ব্যবসা করে আসছে। ব্যবসার আড়ালে একের পর এক বিয়ে করছে নিজাম। ১৯৯৫ সালে তিনি জাহানারা বেগমকে প্রথম বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে রয়েছে দুই সন্তান। দুই সন্তান রেখেই নিজাম প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয়। এরপরেই খাজিদাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় ঘরে তিনটি পুত্র সন্তান রেখে তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এরপর মারুফা বেগমকে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন। তৃতীয় স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে এমন অভিযোগ ছেলে রিয়ন ও চতুর্থ স্ত্রী নাসিমার। পরে ওই স্ত্রীকেও তাড়িয়ে দেয়। ২০০৭ সালে নাসিমা বেগমকে চতুর্থ বিয়ে করেন। নাসিমার ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। এ বছর জানুয়ারী মাসে চতুর্থ স্ত্রী নাসিমাকে না জানিয়ে পঞ্চম স্ত্রী হিসেবে একই এলাকার ১৩ বছরের নিলা নামের এক মেয়েকে গোপনে বিয়ে করে। বর্তমানে ষষ্ট বিয়ের জন্য চতুর্থ স্ত্রী নাসিমা ও পঞ্চম স্ত্রী নিলার সম্মতি চায়। পঞ্চম স্ত্রী নিলা সম্মতি দিলেও চতুর্থ স্ত্রী নাসিমা ষষ্ট বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। চতুর্থ স্ত্রী নাসিমা ষষ্ট বিয়েতে স্বামী নিজামকে বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজাম মাতুব্বর চতুর্থ স্ত্রীকে ঘরের মধ্যে গত ৬ মে আটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ধারালো অ¯্ররে আঘাতে নাসিমার বাহু, কোমর, পিঠ ও রানে গুরুতর জখম হয়। এছাড়াও নাসিমার স্পর্শকাতর স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।


স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে নাসিমাকে ওইদিন আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়। ছয়দিন ধরে নাসিমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নাসিমার বাবা সফেজ খলিফা অন্ধ। মা চলাফেরা করতে পারে না। অর্থের অভাবে নাসিমার চিকিৎসা হচ্ছে না। শনিবার রাতে নাসিমা বেগম নিজাম মাতুব্বরকে প্রধান আসামী করে চার জনের নামে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নাসিমার সাথে কথা বললে তিনি জানান, তার শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রচন্ড যন্ত্রণা করছে। এছাড়া শরীরে বিভিন্ন স্থানে সেলাই করা হয়েছে। তিনি যন্ত্রণায় চলাফেরা চলাফেরা করতে পারছে না।
আহত নাসিমা বেগম আরো জানান, বিয়ের ১২ বছর শতাধিক বার মারধর করেছে। ওর নির্যাতনে আমার জীবনটাই শেষ। মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে ওর সংসার করছি। তিনি আরো বলেন, আমার বিয়ের আগে দুই স্ত্রীকে ছেলে সন্তান রেখে তালাক দিয়েছে। একজনকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। এ বছর জানুয়ারী মাসে ১৩ বছরের নিলা নামের একটি মেয়েকে বিয়ে করেছে। এখন আবার ষষ্ট বিয়ের জন্য আমার সম্মতি চায়। আমি এতে সম্মতি না দেয়ায় আমাকে ধারালো অ¯্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে।
বিয়ে পাগল নিজাম মাতুব্বরের প্রথম স্ত্রীর ছেলে রিয়ন জানান, বাবা এ পর্যন্ত পাঁচটি বিয়ে করেছে। আবারো ষষ্ঠ বিয়ে করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার ষষ্ঠ বিয়েতে আমি বাঁধা দেয়ায় আমাকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। বাবার এহেন কাজের জন্য আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারি না।
সে আরো জানান আমার সৎ মা নাসিমাকে বিয়েতে বাধা দেয়ায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে।
বিয়ে পাগল নিজাম মাতুব্বর মুঠোফোনে একাধিক বিয়ে ও স্ত্রী নাসিমাকে মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার ছেলে এবং স্ত্রী আমাকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়।
আমতলী থানার ওসি আবুল বাশার বলেন, নিজাম মাতুব্বর একের পর এক বিয়ে করছে। আবার বিয়ে করতে বাঁধা দেয়ায় চতুর্থ স্ত্রীকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: সময় সংযোগ টুয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib