শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়য় দাফন সম্পন্ন তালতলীতে খাস জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভুমিহীন নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত উজিরপুরের হারতায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচার প্রচারণায় চলচ্চিত্র তারকারা ত্রিশা‌লে নির্বাচন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ আমতলীতে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হওয়া পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ৩ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না শিক্ষক- কর্মচারীরা ১০ মাস পরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় এনজিও পরিচালনার নামে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন বাগেরহাটের মোল্লারহাটে ডিকেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকর বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ বাগেরহাটে এবার জাল দলিল,ষ্টাম্প, নকল সীলসহ প্রতারক জাফর আটক
সিলেট বিভাগের সকল জেলায় জেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহীগন যোগাযোগ করুন somoysongjog24@gmail.com

আমতলীতে পাল্টে গেছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জীবন, করুণদশা শিক্ষক- কর্মচারীদের

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩০ Time View

বরগুনার আমতলী উপজেলার হুমায়রা রোকেয়া আলোকিত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের ৪০জন শিক্ষক কর্মচারী দীর্ঘ ৪ বছর ধরে এমপিও ভূক্তির আশায় সরকারের সুদৃষ্টির প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন। এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষকরা দীর্ঘদিনে ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নেই সরকারী কোন সহযোগিতা। এ কিছুর পরেও খুবই আন্তরিকতার সাথেই পাঠদান ও অন্যান্য কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন বিদ্যালয়টিতে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধার নিজ উদ্যোগে তার নিজস্ব জমিতে আমতলী সদর ইউনিয়নের নাচনাপাড়া গ্রামে (আড়–য়া বৈরাগীর ব্রীজের নিকট) ২০১৭ সালে হুমায়রা রোকেয়া আলোকিত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৯০ জন প্রতিবন্ধী শিশু লেখাপড়া করছেন। স্বেচ্ছাশ্রমে এসব প্রতিবন্ধীদের পাঠদান করাচ্ছেন কর্মরত ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা।

সরেজমিনে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আধাপাকা টিনসেটের একটি ভবনে আলাদা আলদা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা প্রতিবন্ধী শিশুদের পাঠদান করছেন। বিদ্যালয়টিতে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশু ভর্তি হওয়ার পর থেকে বদলে যেতে শুরু করেছে তাদের জীবনমান। আগে যারা স্পষ্ট করে কথা বলতে পারতোনা, লিখতে পারতো না, বাংলা ও ইংরেজি বর্ণমালা চিনতো না, বুঝতো না পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। ঠিক তারাই এখন স্পষ্ট করে কথা বলতে পারে, লিখতে পারে, বর্ণমালা চেনে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও তারা এখন অনেক সচেতন। দিন দিন তাদের অনেক উন্নতি হচ্ছে। এ সব কিছুই সম্ভব হয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক- কর্মচারীদের আন্তরিকতায়। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে রিকসা-ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন।

অভিভাবক মোঃ আব্বাস মিয়া বলেন, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েটা আগে কিছু বুঝতো না। এই স্কুলে পড়তে এসে এখন মানুষের সঙ্গে মেশে। কথা বলার চেষ্টা করে। বাবা- মা বলে ডাকে। ইশারার মাধ্যমে পায়খানা- প্রসাব করার কথা বোঝায়। দিন-দিন তার অনেক উন্নতি হচ্ছে।

সহকারী শিক্ষক বেলাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয় থেকে কেউ কোনো প্রকার বেতন ভাতাদি পাচ্ছি না। ফলে অনেক কষ্ট করে আমাদের শিক্ষক-কর্মচারীদের সংসার চালাতে হচ্ছে। অতিদ্রুত বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্তির আওতায় নেওয়ার জন্য আমরা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

প্রধান শিক্ষক মোঃ নিয়াজ মোর্শেদ ইমন জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবন্ধীদের জীবনপট পাল্টে উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। তারা এখন অনেক কাজে পারদর্শী হয়ে উঠছে। প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের উন্নয়নে তাদের চাহিদা মতো সকল প্রকার শিক্ষা ও ব্যয়ামের উপকরণ রয়েছে এ বিদ্যালয়ে। রয়েছে ফিজিওথেরাপিস্টসহ সংগীত ও বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকও। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের কারিগরি ও কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এতে করে তারা আত্ম-নির্ভরশীল হতে পারবে।

সচেতন এলাকাবাসীর দাবী বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করা হলে যেমন সুযোগ-সুবিধা বাড়বে তেমনি উপকৃত হবে শিক্ষক-কর্মচারী এবং প্রতিবন্ধিদের পরিবারগুলোর।

বিদ্যালয়টির জমিদাতা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, আমার নিজস্ব ৩৩ শতাংশ জমির উপড় হুমায়রা রোকেয়া আলোকিত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেমি পাকা টিনসেট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে ১৯০ জন প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থীরা অধ্যায়ন করছেন। এমতাবস্থায় দ্রুত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়টির এমপিওভূক্ত করতে হবে অন্যথায় এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা অন্য পেশায় চলে যাবেন। ফলে আবারও অবহেলা ও অসহযোগিতায় পিছিয়ে যাবে অত্র এলাকার প্রতিবন্ধীরা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এতকিছু করার পরেও বিদ্যালয়টিতে সরকারের কোনো প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পাইনি।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে এমপিও ভুক্তির জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: কাওসার হামিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib