বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৩ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
বিশ্বনবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে ফ্রান্সে পণ্য নিষিদ্ধের দাবিতে ঝালকাঠিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ত্রিশালে বিভাগীয় কমিশনারের সাথে মতবিনিময় বরিশাল বানারীপাড়ায় কিশোরী ধর্ষণ চেষ্টা: লম্পট গ্রেফতার নীলফামারীতে ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে জেলা পুলিশের ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্টিত আমতলীতে বিশ্ব হাত দোয়া দিবস পালন আমতলীতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ১৯ সদস্যের মধ্যে ঋণ বিতরণ রংপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় এএসআই রাহেনুল জড়িত বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ২৯ নভেম্বর রেলমন্ত্রী। সম্প্রসারিত মেডিকেল সেন্টারে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন কাজের উদ্বোধন বনদস্যুদের গুলিতে আহত মৎসজীবি নজির অবশেষে মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন

আমতলীতে নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকিয়ে অনন্য নজির সৃষ্টিকারী মনিকা বিদ্যালয়ে ফিরেছেন

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯
  • ৭২ Time View

জেলা প্রতিনিধি, বরগুনা।।

নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকিয়ে অনন্য নজির সৃষ্টি করা আমতলীর মনিকা বিদ্যালয়ে ফিরেছেন। তাকে কাছে পেয়ে আনন্দিত তার সহপাঠি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রবিবার মনিকা বিদ্যালয়ে শ্রেনী কক্ষে পাঠদান করেছেন। তাকে নিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষকের মাঝে কৌতুহলের শেষ নেই। সবাই’র ভাষ্য দ্বিতীয় শ্রেনীর একটি মেয়ে এতবড় সাহসী পদক্ষেপ কিভাবে নিতে পারে? সাহসী কন্যা মনিকা সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে জীবনে বড় কিছু হতে পারবে বলে তাদের  ধারনা।আমতলীর সর্বমহলে আলোচিত একটি নাম সাহসী কন্যা মনিকা। সরকারের কাছে সচেতন নাগরিকের দাবী মনিকাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারী সহযোগীতা দেয়া।

জানাগেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের অফিস বাজার এলাকার রিক্সা চালক জুয়েল প্যাদা আমতলী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বটতলা ব্রীজ সংলগ্ন খালের পাড়ের বাসুগী গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। স্ত্রী শাহানাজ বেগম আমতলী পৌরসভায় পরিছন্নকর্মী হিসেবে দৈনিক মজুরীতে কাজ করেন। স্বামী-স্ত্রীর আয়ে কোন মতে চলে তাদের জীবন সংসার। তাদের একমাত্র কন্যা মনিকা পৌরসভার আমতলী এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ে। অভাবেব সংসারে ৯ বছরের কন্যা মনিকা হয়ে পড়ে তাদের বোঝা। এতটুকু বয়সে কিছু বোঝার আগেই সিদ্ধান্ত নেয় মা শাহানাজ মেয়েকে বিয়ে দেয়ার। মনিকার মা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী শাহনাজ বেগম একই পৌরসভার আরেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী শামীম (১৫) এর সাথে মেয়ের বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন। এ বিয়েতে মনিকার বাবা রাজী ছিল না বলে জানায় মনিকা। নিজের বিয়ের এ আয়োজন দেখে মনিকা চমকে যান এবং তার এ বিয়ে বন্ধের জন্য একই এলাকার খেলার সাথী ফারজানা ও কনিকাকে নিয়ে আমতলী থানায় চলে আসে। থানায় এসআই নাসরিনের সাথে দেখা হলে মনিকা তার বিয়ের আয়োজনের সব কথা খুলে বলেন। তাৎক্ষনিক এসআই নাসরিন কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে মনিকার বাড়ীতে চলে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে এসআই নাসরিন বিয়ের সকল আয়োজনের সতত্যা পান। এসআই নাসরিন তাৎক্ষনিক আমতলী ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ চন্দ্র মজুমদারকে জানান। ভ্রাম্যমান আদাতের বিচারক কমলেশ মজুমদার ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মনিকার মাকে বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে বলেন। পরে বাল্য বিয়ের কুফল বুঝতে পেরে মনিকার মা তার মেয়েকে বাল্য বিয়ে দিবেন না বলে মুচলেকা দেন। নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকানোর ঝামেলার কারনে শনিবার বিদ্যালয়ে আসেনি মনিকা। রবিবার বিদ্যালয়ে আসায় তার সহপাঠীরা তাকে কাছে পেয়ে আনন্দিত হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকের মাঝে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্দিপনা ও কৌতুহল। তাকে নিয়ে গর্ভবোধ করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সহপাঠী ও বিদ্যালয়ের অনন্যা শিক্ষার্থীরা তাকে নিয়ে হৈহুল্লুর করছে। মনিকার এমন সাহসীকার জন্য ধন্য উপজেলাবাসী এমনটাই জানালো সাধারণ মানুষ।

রবিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, মনিকা তার সহপাঠিদের নিয়ে শ্রেনী কক্ষে বসে আছে। শিক্ষক তাদের পাঠদান করাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গণে মনিকা বলেন, আমার মনের জোড়েই আমি থানায় গিয়েছি। আমি বুঝতে পারছি আমার মা একটি বড় অন্যায় করছে। থানায় গেলেই সব সমাধান হবে। তাই হয়েছে। মনিকা আরো বলেন, আমি লেখাপড়া করে মানুষ হতে চাই। আমি নিজের বিয়ে ঠেকিয়েছি। কোথাও বাল্য বিয়ের খবর পেলে আমি ওই বিয়েও বন্ধ করবো।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রাসেল বলেন, মনিকা যে কাজটি করেছে তা সমাজের জন্য একটি অনন্যা দৃষ্টান্ত। ওইটুকু মেয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এতোবড় কাজ করেছে এটা ভাবাই যায়না। তিনি আরো বলেন, এ রকম মনিকা যুগে যুগে জন্ম নেয় না। ওর এতোবড় কাজে বিদ্যালয়সহ গোটা আমতলীবাসী ধন্য।

আমতলী উপজেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রী মনিকা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যা অকল্পনীয়। মনিকার লেখাপড়া চালিয়ে নেয়ার জন্য সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী আফিসার মোসাঃ মনিরা পারভীন বলেন, মনিকার শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম চলমান রাখবো। মনিকার যেন লেখাপড়ায় কোন ব্যঘাত না ঘটে সেই দিকে দেয়াল রাখা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: সময় সংযোগ টুয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib