মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০২ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
বাগেরহাটে ইউপি সদস্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ কালের গর্ভে হারিয়েই যাচ্ছে মেয়েদের প্রিয় ‘কুতকুত’ খেলা মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, প্রস্তুত দু’উপজেলার জেলেরা বিরামপুরে নারী নেটওয়ার্কের সাথে সভা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ১০ রোহিঙ্গাকে থানায় সোপর্দ পীরগাছায় আসন্ন ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে কর্মীসভা কিশোরগঞ্জে গ্রামীণ দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মাছ ধরা উৎসব এখন মাঝিপাড়ায় আর কোনো আতঙ্ক নেই- ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচারের জন্য সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ করতে হবে বাগমারায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শোভাযাত্রা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
সিলেট বিভাগের সকল জেলায় জেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহীগন যোগাযোগ করুন somoysongjog24@gmail.com

আমতলীতে আবাসনের ঘরে আশ্রিতদের কষ্টের জীবন

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
  • Update Time : সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৮ Time View

৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা আলো বেগম। গত ১৯ বছর পূর্বে তার ঠিকানা হয়েছে দক্ষিন তক্তাবুনিয়া আবাসন প্রকল্পে। দীর্ঘ বছর ধরে তিনি ওই আবাসনের ঘরে থাকলেও একবারের জন্যই সংস্কার করা হয়নি। শুধু আলো বেগম নন। বরগুনার আমতলী উপজেলায় সবচেয়ে বড় দক্ষিন তক্তাবুনিয়া আবাসন প্রকল্পে বসবাস করা ১৫০টি পরিবারের ঘর এখন জরাজীর্ণ। তবুও কষ্ট করে বসবাস করছেন হতদরিদ্র ওই অসহায় পরিবারগুলো।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া নদীর তীরে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর তত্ত্ববাবধানে দক্ষিন তক্তাবুনিয়া আবাসন প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের বসবাসের জন্য ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়। সিমেন্টের খুটির ওপর লোহার এ্যাঙ্গেল দিয়ে টিনের চালা ও বেড়া দিয়ে তৈরি হয় আলাদা আলাদা ১৫টি ব্যারাক। একেকটি ব্যারাকে ১০টি পরিবারের জন্য ১০ ঘর নির্মাণ করে তা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ব্যারাকে একটি নলকূপ ও তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি বাথরুম কাম টয়লেট রয়েছে। ওই আবাসনে ১৫০টি হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাই হয়েছে।

ওই আবাসনে বসবাসরত ভূক্তভোগী বাসিন্দারা জানায়, বসবাসের ঘরগুলো দীর্ঘ সময়ে সংস্কার না করায় চালের ও বেড়ার টিনে মরিচা ধরে ঝরে পড়েছে। বৃষ্টি নামলেই চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে। অনেক সময় মাথার ওপর পলিথিন দিয়ে বসে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। প্রচন্ড শীতে ঘরে প্রবেশ করে ঠান্ডা বাতাস। বাথরুম- টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। আবাসনের ভিতরের অভ্যান্তরিন রাস্তার ইট, ঘরের লোহার এ্যাঙ্গেলগুলো চুরি হয়ে গেছে। বসবাস না করায় অনেক ঘর এখন জঙ্গলে পরিনত হয়েছে।

আবাসনের এ সকল সমস্যার বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের বরাবরে লিখিত ও একাধিকবার মৌখিকভাবে জানিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অনেকেই আবাসস্থল ছেড়ে অন্যাত্র চলে গিয়েছেন। বর্তমানে ওই আবাসনে ২০ থেকে ২৫টি পরিবার অনেক কষ্টে বসবাস করলেও বাকী ঘরগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অধিকাংশ ব্যারাকগুলোর চারপাশ আগাছা জন্মে জঙ্গলে পরিনত হয়েছে।

ভূক্তভোগী বাসিন্ধারা জরুরি ভিত্তিতে ওই আবাসনের বসবাস অযোগ্য ঘরগুলো মেরামতের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।

আবাসনের সভাপতি মোঃ সুলতান মৃধা বলেন, দক্ষিন তক্তাবুনিয়া আবাসনটি নির্মিত হওয়ার পরে অদ্যবদি কোন সংস্কার করা হয়নি। আবাসনের দুরাবস্থার কথা জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ডিসি স্যারের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক বলেন, আবাসন প্রকল্পের জরাজীর্ণ ঘরগুলো সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কাওসার হোসেন (অতিঃ দায়িত্ব) মুঠোফোনে বলেন, আবাসন প্রকল্পের সংস্কার কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র পাঠিয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: কাওসার হামিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib