সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গা জেলায় কর্মরত জাহাতাব উদ্দীনও রুকমিয়াকে র‍্যাংক ব্যাচ পরিয়ে দিলেন এসপি জাহিদুল ইসলাম বিরামপুরে পৌর মেয়রের পূজা মন্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান প্রদান জয়পুরহাট পৌর এলাকার ২৬টি পূজা মন্দিরে ৩ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান মেয়র মোস্তাক বয়স্ক ভাতায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম। বাগেরহাটে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে এস এম আকবর সরদারকে পুনরায় ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী ঝালকাঠি মন্ডপে মন্ডপে মহা নবমী পূজা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি জেলা রাজস্ব বিষয়ক সভা জামালপুরে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক মোংলা বন্দরে বিদেশী জাহাজের সেকেন্ড অফিসারের মৃত্যু

আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি জাপা

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯
  • ২২০ Time View

আলো রহমান আখিঁ, রংপুর ব্যুরো:
রংপুর মানেই ছিল একসময় জাতীয় পার্টির (জাপা) একাধিপত্য। তবে সেদিন গত হয়েছে অনেক আগেই। সব শেষ জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে মোটেও ভালো করতে পারেনি তারা। এ অবস্থায় দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জাপা রংপুরে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, তা নিয়ে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। ইতোমধ্যে এরশাদের রংপুর-৩ (সদর) আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। শিগগির এখানে উপনির্বাচনের তারিখ জানানো হবে। এ আসনে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের অন্তত ১৬ জন আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী আওয়ামী লীগের ৯ জন এবং ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৭ গ্রার্থী। তারা এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিবে না। গত জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের ভরাডুবির এবং এরশাদের অবর্তমানে সদর আসনটি ধরে রাখতে পারবে কিনা এনিয়ে অনেকের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় পার্টির (জাপা) দূর্গখ্যাত একাদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার ৬টি আসনে জাতীয় পার্টি পেয়েছে মাত্র দুটি আসন। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান পেয়েছেন একজন। সে সময় গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এরশাদ ছিলেন জেলে। তখন থেকে সদর আসনটি তার দখলে। ১৯৯৬ সালে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ২১টিতেই জয় পায় জাতীয় পার্টি। তবে এর পর থেকে দলটির আসনসংখ্যা শুধু কমেছে। শুধু সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনই নয়, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ভরাডুবি হয় দলটির। রংপুরের ৭৮টি ইউনিয়নের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জিতেছেন। তাই এরশাদের মৃত্যুর পর রংপুরে জাতীয় পার্টি আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সংশয় দেখা দিয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য রংপুর সদর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ৯ জন। সেসময় তারা সকলেই আশাবাদী ছিল নৌকা প্রতীক পেলেই বিজয়ী হওয়া সম্ভব। এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এই আসনে তাদের অনেকেই এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহাম্মেদ, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রোজি রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক লতিফা শওকত, রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুব মহিলা লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক নাসিমা জামান ববি, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হোসনে আলা লুৎফা ডালিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম,জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল ও রংপুর মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কর্মাসের প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলন। এ ব্যাপারে জেলা জাতীয় পার্টির জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি সামসুল আলম,ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাকসহ বেশ কজন নেতা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘রংপুর সদর আসন এরশাদের মূলঘাটি। এখানে কোন দলই সুবিধা করতে পারবে না। দলীয়ভাবে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করব। নগরীর বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এমনিতে জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে দুর্বল। তার ওপর দলের চেয়ারম্যানের মৃত্যু। এ অবস্থায় জাতীয় পার্টি সদর আসটি ধরে রাখতে পারবে কিনা এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে এরশাদ ছাড়াও পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান রিটা রহমান (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-ধানের শীষ), আমিরুজ্জামান পিয়াল (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), সাব্বির আহম্মেদ (পিডিপি-বাঘ), আনোয়ার হোসেন বাবলু (বাসদ-কোদাল), আলমগীর হোসেন আলম (জাকের পার্টি-গোলাপ ফুল), তৌহিদুর রহমান মন্ডল (খেলাফত মজলিস-দেওয়াল ঘড়ি) ও ছামসুল হক (এনপিপি-আম) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারও এবার এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।এছাড়াও বিএনপি থেকে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহানগর বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি কাওছার জামান বাবলার নাম শোনা যাচ্ছে। তারাও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষরদের সদস্য চৌধুরি খালেকুজ্জামান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমি ৩ বার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলাম। কিন্তু জোটগত কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এখানে নৌকা প্রতীকের বিকল্প নেই। আশা করি এ আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থী দেয়া হবে। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে সদর আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়ে আছে। এই আসনে এবার নৌকার প্রার্থী দেয়া হবে। আশাকরি নৌকাই এখানে বিজয়ী হবে।’উল্লেখ্য, সদর আসন রংপুর মেট্রোপলিটন সিটি ছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ১শ ৪৯ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৭শ ১৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৪শ ৩৪ জন।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: সময় সংযোগ টুয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib