বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
রাজশাহী বাগমারায় খাল থেকে এক অপরিচিত নারীর লাশ উদ্ধার ইউপি চেয়ারম্যান মন্নান মৃধার বিরুদ্ধে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ৭ জন হাতে হাত রেখে শপথ উদয়কাঠী ইউপি চেয়ারম্যান পদে আহাদুজ্জামান লিটন মুন্সীর পক্ষে নৌকার মনোনয়ন ফরম জমা ময়মনসিংহে আমার এমপির দুই দিন ব্যাপি ওয়ারিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ ২৪ টি কন্যা শিশুর পরিবারকে পাঠানো হলো ফুল ও নতুন পোশাক বকশীগঞ্জে বসতভিটা ও ফসলি জমি দখলের অভিযোগ ভূক্তভোগী পরিবারের রংপুরে কোভিড প্রচারে স্টেকহোল্ডারদের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ অভিযান: ৪ টি ইটভাটা মালিককে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা। ভূঞাপুরে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্ত গ্রেফতার। রাজশাহী বাগমারায় একজন প্রতিভাবান প্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবনযাপন।

আগামীকাল (১৪ ডিসেম্বর) আমতলী মুক্ত দিবস

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২৪ Time View

আগামীকাল ১৪ ডিসেম্বর। ১৯৭১ এই দিনে বরগুনার আমতলী থানা হানাদার মুক্ত হয়েছিল। ১১ ডিসেম্বর বরগুনার বুকাবুনিয়া ক্যাস্প থেকে নৌকা যোগে প্রয়াত হাবিলদার হাতেম আলী, আফাজ উদ্দিন বিশ্বাস ও মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে দু’দল মুক্তিবাহিনী পঁচাকোড়ালিয়া হয়ে আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারে আসে। ১২ ডিসেম্বর আফাজ উদ্দিন বিশ্বাস ও নুরুল ইসলাম পাশা তালুকদারের নেতৃত্বে একদল মুক্তি বাহিনী কুকুয়া ইউনিয়নের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পৌছেন। ওই খানে প্রয়াত সাবেক এমপি নিজাম তালুকদারের নেতৃত্বে অস্থায়ী ক্যাস্প করা হয়। অপরদিকে গলাচিপার মুজিব বাহিনীর হারুন-অর-রশিদ ও আবদুর রব মিয়ার নেতৃত্বে একদল মুক্তিকামী যোদ্ধা ওই ক্যাম্পে আসেন। দু’গ্রæপ আমতলী থানা মুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহন করেন।

এদিকে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সভাপতি এবিএম আসমত আলী আকন, ন্যাপ নেতা গাজী আমীর হোসেন ও স্কুল শিক্ষক দলিল উদ্দিন আহম্মেদ আমতলী থানা শান্তিপূর্ণ ভাবে মুক্ত করতে মুক্তি বাহিনী ও পুলিশের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়। ওই সময় আমতলী থানায় কোন পাক বাহিনী ছিল না। থানায় ছিলেন ওসি রইস উদ্দিন ভূইয়া, কয়েক জন পুলিশ ও রাজাকার বাহিনী। ১৩ ডিসেম্বর সকালে তারা ওসি রইস উদ্দিন ভূইয়ার সাথে বৈঠক করেন। ওসি শান্তিপূর্ণভাবে আমতলী থানা মুক্তি বাহিনীর হাতে ছেড়ে দিতে রাজি হয়ে ক্যাম্পে তাদের মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠায়। এ চিঠি মুক্তি বাহিনীর ক্যাম্পে মধ্যস্থতাকারীরা পৌছে দেয়। মুক্তি বাহিনীর সদস্যরা সন্ধ্যায় থানার পশ্চিম প্রান্তে চাওড়া নদীর পাড়ে সরকারী একে পাইলট হাই স্কুল সংলগ্ন স্থানে অবস্থান নেয়। ওদিকে ওসি রইস উদ্দিন ভুইয়ার পাঠানো চিঠিটি ছিল একটি পাতানো ফাঁদ। মুক্তি বাহিনীরা থানায় আসলে গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ওসি’র এ পরিকল্পনা মুক্তি বাহিনী জেনে যায়। ওইদিন রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে মুক্তি ও মুজিব বাহিনী যৌথভাবে “জয় বাংলা” শ্লোগান দিয়ে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। জবাবে রইস উদ্দিন ও রাজাকার বাহিনী বর্ষার মত গুলি ছোঁড়ে। শুরু হয় যুদ্ধ। রাতভর গুলি বিনিময়ে এক নৌকার মাঝি শহীদ হয় (তার নাম পাওয়া যায়নি)। কাকডাকা ভোরে গলাচিপার মুজিব বাহিনীর গেরিলা যোদ্ধা হারুন-অর-রশিদ মতান্তরে ফেরদৌস হায়দার নদী পার হয়ে থানার প্রাচীর ঘেঁষে একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হয়। পুলিশ ও রাজাকার বাহিনী মানুষিকভাবে ভেঙ্গে পরে। অপরদিকে মুক্তিকামী জনতা দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত থেকে বিজয় মিছিল নিয়ে থানার দিকে আসতে থাকে এবং মুক্তিবাহিনী নদী পাড় হয়ে উত্তর প্রাপ্ত থেকে থানার দিকে অগ্রসর হয়। অবস্থার বেগতিক দেখে ওসি রইস উদ্দিন, পুলিশ ও রাজাকার বাহিনী সাদা পতাকা উত্তোলন করে আত্মসমর্পন করার ঘোষণা দেয়।

১৪ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় মুক্তি ও মুজিব বাহিনী যৌথভাবে এবং জাগ্রতজনতা “জয় বাংলা” শ্লোগান দিয়ে থানার প্রধান ফটকে প্রবেশ করে। এ সময় ওসি রইস উদ্দিন ভূইয়া ও তার বাহিনী অস্ত্র তুলে আত্মসমর্পন করে। পরে আওয়ামীলীগ নেতা আফাজ উদ্দিন বিশ্বাস ও নুরুল ইসলাম পাশা তালুকদার ওসি রইস উদ্দিনসহ তার সহোযোগীদের আটক করে।

মুক্তিযোদ্ধা আফাজ উদ্দিন বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং উপস্থিত জনতা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আমতলী থানাকে মুক্তাঞ্চল ঘোষনা করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: মোঃ জহিরুল ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib