মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
জামালপুরে চলন্ত ট্রাকচাপায় এক জনের মৃত্যু অধিকার আদায়ে অনলাইন প্রেস ইউনিটির সদস্য হওয়ার আহবান ট্রাফিক আইন মেনে চলতে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শফিউল আলমের বাণী আন্তর্জাতিক কাস্টমস্ দিবস-২১ দেশের উন্নয়ন তরান্বিত করতে ভ্যাট প্রদানের বিকল্প নেই দিনাজপুরে ৩ রোভারের পায়ে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণ বানারীপাড়া ইলুহার ইউনিয়নে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ কমিটি গঠন করোনার ৫০ লাখ ডোজ টিকা এখন টঙ্গীতে বাগেরহাটে তামাক কোম্পানির বিজ্ঞাপন ও প্রচারনা রোধে সভা অনুষ্ঠিত ভূঞাপুরে ৪ বালু ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা। নতুন বছরে ব্র্যান্ড বাজারে চলছে ধুমধারাক্কা অফার

অসুস্থ সংস্কৃতির হাট-বাজার

জবি প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৩৩ Time View
সময়ের পরিবর্তনের সাথে, মানুষের আচার-আচরন ও রুচিও পরিবর্তনশীল, এটাই স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক তখনই বলা হবে, যখন মানুষ পরিবর্তিত হয়ে অধঃপতনের দিকে ধাবিত হয়,ভালোটা ছেড়ে মন্দের দিকে যায়। পরিবর্তনের পালাবদলে মানুষ তার সংস্কৃতির শেকড় ভুলে যায়, তখনই সেটা অস্বাভাবিক।
বাঙালির সংস্কৃতি বা আচার-আচরন, রুচি এক সময় সমৃদ্ধ ছিল, খুব দ্রুত বিবর্তনে আজ যে স্থানে আমরা দাঁড়িয়ে, সেখান থেকে, বর্তমানের এই সংস্কৃতিকে আর সমৃদ্ধ বলা চলে না।পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে আচার -অনুষ্টান সব কিছুতেই আমূল নেতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। হ্যাঁ ইতিবাচক পরিবর্তনও হয়েছে কিন্তু তা খুবই নগন্য। আধুনিকতার নামে অসুস্থ এক সংস্কৃতির দিকে আমরা ধাবিত হচ্ছি।
সামাজিকরনের যে প্রক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে আমরা সংস্কৃতি শিখছি, সেটাই ভুল। অর্থাৎ আমরা শিখছিই ভুল সংস্কৃতি। বর্তমান প্রচার মাধ্যম বা বিনোদন মাধ্যম অর্থ্যাৎ টিভি চ্যানেলগুলো বিভিন্ন ভাবে আমাদের অপসংস্কৃতির দিকে ঢেলে দিচ্ছে। বিনোদন মাধ্যমের সেই সোনালি অতীত এখন আর নেই।সত্তরের দশক বা আশির দশকে যে ধরনের সিনেমা, সঙ্গীত আমাদের সামনে পরিবেশন করা হতো, সেগুলো থেকে কিছু শেখা যেত, জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ ও অন্তর আত্মার পরিপুষ্টি সম্ভব হতো।
তখনকার সময়কার সিনামা, নাটক আর গানগুলো গুনী একদল মানুষের তত্ত্বাবধানে নির্মান ও পরিবেশন করা হতো। শহীদুল্লাহ কায়সার, জহির রায়হান, তারেক মাসুদ, হুমায়ুন আহম্মেদ এর মতো গুনী লেখক ও নির্মাতাদের দ্বারা নির্মিত  হতো “সংসপ্তক, হাজার বছর ধরে, জীবন থেকে নেওয়া ও কোথাও কেউ নেই” এর মতো কালজয়ী সিনেমা ও নাটকগুলো।
গানগুলোও নির্মান করতো তারা এবং তাদের মতো আরও একদল গুনী লেখকের হাতে,অন্য এক দল গুণী সুরকারদের দ্বারা সুর করে, কোকিলকণ্ঠী রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, আহম্মেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, সুবীর নন্দী ও এন্ড্রু কিশোর এর মতো এক ঝাঁক গুনী শিল্পীদের দ্বারা সেই গান আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হতো। সেই সময়ের সেই গান,সিনেমা বা নাটকগুলো দর্শকমনে দাগ কাটতো, মানুষের মনে সুর জাগাতো। এখনকার সময়ের সময়ের অর্থহীন অশালীন সংলাপ আর খোলামেলা পোশাকের সিনেমা, নাটক বা গানগুলো থেকে আমরা শুধু অপসংস্কৃতিই শিখতে পারছি। বিনোদনের জগৎটা অপসংস্কৃতি শিক্ষার হাট-বাজারে পরিণত হয়েছে।
প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, অসুস্থ রুচিবোধ, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়, অর্থকে কেন্দ্র করে আজ নির্মিত হচ্ছে সিনেমা, নাটক আর গান। শুধুমাত্র পরিচিত মুখ হওয়া আর অর্থের নেশায় তারা অর্থাৎ যারা বর্তমানের এই অসুস্থ সিনেমা, নাটক বা গানগুলোর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত, তারা যে শুধু নিজেদেরই নিচে নামছে তা কিন্তু নয়, তারা এক অসুস্থ সংস্কৃতি শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে পুরো সমাজ বা জাতিকে নিচের দিকে নামিয়ে দিচ্ছে। কেননা তাদের শিক্ষা দেওয়া এই অপসংস্কৃতিকে লালন করেই বড় হচ্ছে আমাদের বর্তমান প্রজন্ম। এগুলোকে কেন্দ্র করে গঠিত হচ্ছে তাদের চিন্তা ও চেতনার জগৎ। ভবিষ্যতেও তাই হবে। আধুনিকায়ন বাঞ্চনীয় কিন্তু আধুনিকতার নামে অসুস্থ, রুচিহীন সংস্কৃতি বাঞ্চনীয় নয়।এ থেকে পরিত্রাণ প্রয়োজন। আর এ থেকে পরিত্রানের জন্য,সামাজিক সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমাদের এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে যে, সুস্থ-সুন্দর সমাজ জীবন গঠনে সুস্থ-সুন্দর সংস্কৃতি চর্চা করা প্রয়োজন।
আশিকুর রহমান
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: মোঃ জহিরুল ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib