সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
মুজিব বর্ষ
শিরোনাম :
গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বঙ্গবন্ধু ১৭তম জাতীয় দূরপাল্লা সাঁতার প্রতিযোগিতা জয়পুরহাটে বিএনপির দুই নেতার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল রংপুরে নিষিদ্ধ পলিথিন সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে আটটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা অভিনব কায়দায় চার লাখ ৪০ হাজার ৩২৫ টাকা চুরি রাজবাড়ির বালিয়াকান্দিতে বাল্য বিবাহের দায়ে কনের বাবাকে জরিমানা রাজশাহী বাগমারায় এক গৃহবধূ কে যৌতুকের জন্য নির্যাতন থানায় মামলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে কাঙ্খিত লক্ষে এগিয়ে নিতে হবে, আমির হোসেন আমু রংপুরে অনুষ্ঠিত হলো শিখন বিনিময় কর্মশালা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি রংপুরে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির ক্যামেরা পারসনের ওপর হামলা সাংবাদিকদের অবস্থান ধর্মঘট কাউখালীতে ৫০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

অবরোধ শেষে সমুদ্রে যাবার অপেক্ষায় উপকূলের জেলেরা

জনি আলমগীর, কুয়াকাটা (পটুয়াখাল) প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ৭৩ Time View
 টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কুয়াকাটা সহ পটুয়াখালী উপকূলের জেলেরা। সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ৪ নভেম্বর রাত ১২টায়। ট্রলার মেরামত, নতুন জাল তৈরী ও পুরানো জাল সেলাইসহ সমুদ্রে মাছ ধরার সকল প্রস্তুতি শেষ করে অপেক্ষায় আছে উপকূলের মৎস্যজীবীরা।
জানা গেছে, মা ইলিশের বাধাঁহীন প্রজনন এবং সকল প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২দিনের সকল প্রকার মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মৎস্য অধিদপ্তর। আগামী ৪ নভেম্বর রাত ১২ টার পর পরই মৎস্য শিকারীরা নেমে পড়বেন রূপালী ইলিশের সন্ধানে। পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার জেলে তাদের সকল প্রকার  প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছেন। আলীপুর, মহিপুর ও কুয়াকাটা অঞ্চলের জেলেরা তাদের ট্রলার ও জাল মেরামতের পাশাপাশি ইঞ্জিণের কাজে শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দেশের অন্যতম মৎস্য বন্দর আলীপুরের জেলে সিদ্দিক, বেল্লাল ও রুহুল আমিন মাঝি বলেন, সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আমরা পালন করেছি। আমরা ইতোমধ্যে ইলিশ মাছ ধরার সকল প্রস্তুতি শেষ করেছি। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় অপেক্ষায় আছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ৫ নভেম্বর সমুদ্রে যাবো।
মহিপুর মৎস্য বন্দরের একাধীক জেলের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবছর ইলিশের ভরা মৌসুমে মাছ না পেয়ে উপকূলের জেলেরা দেনাগ্রস্থ হয়ে পরেছেন। তারপরও সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মাছ শিকার থেকে বিরত ছিলো। অবরোধ শেষে সমুদ্রে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পরলে দেনা পরিশোধ করতে পারবেন।
কুয়াকাটা আশার আলো পূর্ণবাসন মৎস্যজীবী জেলে সমবায় সমিতি লিঃ’র সভাপতি মোঃ নিজাম শেখ বলেন, অবরোধকালীন সময় যদি প্রতিবেশী দেশের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমানায় মাছ ধরতে না পারে তাহলে জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পরতো।
প্রতি বছর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার শেষের দিকে গভীর সমুদ্র থেকে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের নদীর মোহনায় এসে ডিম ছাড়ে মা ইলিশ। তাই ২০০৬ সাল থেকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন অবরোধ দিয়ে আসছে সরকার। এসময় সকল ধরনের মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এবার প্রশাসনের তৎপরতা বেশি থাকায় উপকূল জুড়ে মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে এ অবরোধের সময় বাংলাদেশের জলসীমানায় ঢুকে মাছ শিকার করে নিয়ে জেলেরা পাশর্^বর্তী দেশের জেলেরা এমনটাই দাবী করেছেন মৎস্যজীবীরা।
উপজেলা ফিসিং ট্রলার মাঝি সমবায় সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর মাঝি বলেন, দেশের জেলেরা অবরোধ পালন করলেও মাছ ধরছে ভারতের জেলেরা। তাই ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা সফল করতে দেশের জলসীমানা শতভাগ সুরক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিবে সরকার এমনটাই আশা করছি।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতি’র সভাপতি মোঃ ফজলু গাজী বলেন, যেহেতু অবরোধের আগে মাছ ধরা পরেনি, তাই আমরা আশা করছি অবরোধ শেষে বড় সাইজের পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা মিলবে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জহিরুন্নবী বলেন, উপকূলের জেলেরা নিজেরাই অনেকটা সচেতন হয়েছেন। আমরা এ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৭ জেলেকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ৫৮ হাজার মিটার জাল জব্দ করেছি। তিনি আরও বলেন, আমরা দিনরাত মা ইলিশ রক্ষায় কাজ করেছি। আশা করছি আমরা এ বছর শতভাগ সফল হয়েছি। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ্য করেছেন, গত পূর্ণিমা ও আমাবস্যার জো’তে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত হয়েছে। বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত হলে সকল ডিমওয়ালা মা মাছ দ্রæত ডিম ছেড়ে দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

posted by: মোঃ জহিরুল ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Copyright © by somoy songjog 24 | Developed by Md. Rajib